ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

নগদ থেকে ডাক বিভাগের রাজস্ব আয় বেড়েছে ৩৪%, সরকারের আর্থিক সক্ষমতার নতুন দৃষ্টান্ত

মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের রাজস্ব ভাগাভাগির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ১৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৭৮ টাকা প্রদান করেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ রাজস্ব প্রায় ৫ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারের আর্থিক সক্ষমতার নতুন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম-এর হাতে রাজস্বের চেক তুলে দেন বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামসহ ডাক বিভাগ ও নগদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “নগদ না থাকলে বাজারে একচেটিয়া অবস্থা (মনোপলি) তৈরি হবে। আমরা তা হতে দেব না। নগদকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হবে এবং আরও লাভজনক হতে হবে।” তিনি নগদকে ঘিরে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের জন্য ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের বিকল্প নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নগদের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে, তাই সেবার মান আরও উন্নত করে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিতে হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের। নগদের মাধ্যমে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পেয়েছে। ভবিষ্যতে ডাক বিভাগ ও নগদের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করা হবে।” ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠান লাভ করতে পারে না—এই ধারণা নগদ ভুল প্রমাণ করেছে। আমরা দেখিয়েছি, সরকারি সেবাও লাভজনক হতে পারে।” তিনি জানান, ২০১৯ সালের মার্চে যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে ৯৪৬ কোটি টাকা কর এবং ডাক বিভাগকে ৪৭ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে। ফলে সরকার মোট প্রায় এক হাজার কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা পেয়েছে।

নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার আওতায় আনার ক্ষেত্রে নগদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি, গ্রাহকস্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতেও প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

নগদ থেকে ডাক বিভাগের রাজস্ব আয় বেড়েছে ৩৪%, সরকারের আর্থিক সক্ষমতার নতুন দৃষ্টান্ত

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের রাজস্ব ভাগাভাগির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ১৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৭৮ টাকা প্রদান করেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ রাজস্ব প্রায় ৫ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারের আর্থিক সক্ষমতার নতুন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম-এর হাতে রাজস্বের চেক তুলে দেন বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামসহ ডাক বিভাগ ও নগদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “নগদ না থাকলে বাজারে একচেটিয়া অবস্থা (মনোপলি) তৈরি হবে। আমরা তা হতে দেব না। নগদকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হবে এবং আরও লাভজনক হতে হবে।” তিনি নগদকে ঘিরে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের জন্য ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের বিকল্প নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নগদের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে, তাই সেবার মান আরও উন্নত করে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিতে হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের। নগদের মাধ্যমে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পেয়েছে। ভবিষ্যতে ডাক বিভাগ ও নগদের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করা হবে।” ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠান লাভ করতে পারে না—এই ধারণা নগদ ভুল প্রমাণ করেছে। আমরা দেখিয়েছি, সরকারি সেবাও লাভজনক হতে পারে।” তিনি জানান, ২০১৯ সালের মার্চে যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে ৯৪৬ কোটি টাকা কর এবং ডাক বিভাগকে ৪৭ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে। ফলে সরকার মোট প্রায় এক হাজার কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা পেয়েছে।

নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার আওতায় আনার ক্ষেত্রে নগদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি, গ্রাহকস্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতেও প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।