ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

‘জুলাই আন্দোলন দীর্ঘ দেড় দশকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ফল’: জাহিদুল ইসলাম

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া, বিরোধী মত দমনের অভিযোগ এবং সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই এর সৃষ্টি। এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই শুধু একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের নাম নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে ত্যাগ, সাহস, আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানুষের ঐক্যের এক অনন্য অধ্যায়।

বুধবার (২৯ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শাখা ছাত্র শিবির আয়োজিত ‘জুলাইয়ের অদম্য ঐক্য এবং বিজয়ের ইতিহাস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তৃতার শুরুতে জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাইকে একক কোনো দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। এর ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সাংগঠনিক, আবেগিক ও আধ্যাত্মিক প্রতিটি দিকই গভীরভাবে গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় যেমন একদিকে সংঘর্ষ, গুলি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের মধ্যে নামাজ, দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসার দৃশ্যও দেখা গেছে। এসব বিষয় জুলাইকে একটি ব্যতিক্রমধর্মী গণআন্দোলনে পরিণত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের পেছনে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন ঘটনার ধারাবাহিকতা কাজ করেছে। বিরোধী মত দমন, গুম, গ্রেপ্তার, বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ, বিভিন্ন আন্দোলনে বলপ্রয়োগ এবং নাগরিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ তৈরি করেছিল।

জাহিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে ২০০৬ সালের রাজনৈতিক সহিংসতা, পিলখানা ট্র্যাজেডি, শাপলা চত্বরের অভিযান, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এসব ঘটনার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ করার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করার পর আন্দোলন নতুন গতি লাভ করে। ওই মন্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং ‘তুমি কে, আমি কে? রাজাকার’ স্লোগানটি প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়।

বক্তব্যে তিনি ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ওই ঘটনার পর বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের আগুন আরও তীব্র হয়, যা পরবর্তীতে একটি বিশাল গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং বিগত সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

‘জুলাই আন্দোলন দীর্ঘ দেড় দশকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ফল’: জাহিদুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া, বিরোধী মত দমনের অভিযোগ এবং সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই এর সৃষ্টি। এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই শুধু একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের নাম নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে ত্যাগ, সাহস, আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানুষের ঐক্যের এক অনন্য অধ্যায়।

বুধবার (২৯ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শাখা ছাত্র শিবির আয়োজিত ‘জুলাইয়ের অদম্য ঐক্য এবং বিজয়ের ইতিহাস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তৃতার শুরুতে জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাইকে একক কোনো দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। এর ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সাংগঠনিক, আবেগিক ও আধ্যাত্মিক প্রতিটি দিকই গভীরভাবে গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় যেমন একদিকে সংঘর্ষ, গুলি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের মধ্যে নামাজ, দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসার দৃশ্যও দেখা গেছে। এসব বিষয় জুলাইকে একটি ব্যতিক্রমধর্মী গণআন্দোলনে পরিণত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের পেছনে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন ঘটনার ধারাবাহিকতা কাজ করেছে। বিরোধী মত দমন, গুম, গ্রেপ্তার, বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ, বিভিন্ন আন্দোলনে বলপ্রয়োগ এবং নাগরিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ তৈরি করেছিল।

জাহিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে ২০০৬ সালের রাজনৈতিক সহিংসতা, পিলখানা ট্র্যাজেডি, শাপলা চত্বরের অভিযান, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এসব ঘটনার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ করার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করার পর আন্দোলন নতুন গতি লাভ করে। ওই মন্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং ‘তুমি কে, আমি কে? রাজাকার’ স্লোগানটি প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়।

বক্তব্যে তিনি ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ওই ঘটনার পর বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের আগুন আরও তীব্র হয়, যা পরবর্তীতে একটি বিশাল গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং বিগত সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।