বেসরকারি পাটকলগুলো লাভজনকভাবে চললেও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো লোকসানি কেন—এমন প্রশ্ন তুলে তদন্তসাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করে অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫ পাটকল বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় বেকার হয়ে পড়া পাটকল শ্রমিকরা আবারও রাজপথের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২০ সালের ২ জুলাই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লোকসানের অজুহাতে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হলে প্রায় ৯০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর লোকসানের জন্য সরকারি প্রশাসনের অদক্ষতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য, তৎকালীন বিজেএমসির দুর্নীতি এবং স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়াকে দায়ী করেন তারা।
আরও বলা হয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলসহ ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের পরিকল্পনা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। অতীতে বেসরকারিকরণ করা বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল রাখা সম্ভব হয়নি; বরং সেগুলোকে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ঋণ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হলে শ্রমিক শোষণ বাড়বে এবং দেশি-বিদেশি করপোরেট গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তৃত হবে। পাটশিল্পের সংকটের জন্য বিগত সরকারের অবহেলা, তৎকালীন বিজেএমসির পরিকল্পনাহীনতা ও দুর্নীতির পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের নীতিগত ভূমিকাকেও দায়ী করা হয়। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ২০১০ সালে প্রণীত ‘ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট’ কার্যকর হলে দেশে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার ও পাটের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেত।
সংবাদ সম্মেলনে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—পাটকলসহ সব রাষ্ট্রায়াত্ত্ব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বন্ধ ২৫টি পাটকল দক্ষ ব্যবস্থাপনায় পুনঃচালু এবং শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
রিপোর্টারের নাম 

























