ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ইরানের জাহাজে ইউক্রেনের হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক মূল্যায়ন

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউক্রেন একদিকে যেমন নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকেও এগিয়ে নিয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং র্যান্ড কর্পোরেশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো উইলিয়াম কোর্টনি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার মনে হয় ইউক্রেনীয়রা ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাশিয়াকে ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা একটি ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের হামলাকে ওয়াশিংটন বেশ ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে।’

কোর্টনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাশিয়াকে ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ছিল। বর্তমানে রাশিয়ার একটি কারখানায় এই ড্রোনের উন্নত সংস্করণ তৈরি হচ্ছে। তাই এই সরবরাহ বন্ধে ইউক্রেনের আক্রমণ মার্কিন প্রশাসনকে স্বস্তি দেবে। তবে ইউক্রেনের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে সরাসরি জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘রাশিয়াকে ড্রোন পাঠানো ঠেকিয়ে ইউক্রেন নিজেদেরই উপকার করেছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের এক নম্বর শত্রু ইরানের ওপর আঘাত হেনে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক সুসংহত করছে, যা তাদের জন্য ইতিবাচক।’ তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ পশ্চিমাদের কাছে অপ্রিয় হওয়ায় ইউক্রেন এই সংঘাতে সরাসরি জড়াতে বা অতিরিক্ত প্রচার পেতে চাইবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এই মন্তব্য এমন সময়ে এল যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগ দিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছেছেন। সফরকালে তাদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা

ইরানের জাহাজে ইউক্রেনের হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক মূল্যায়ন

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউক্রেন একদিকে যেমন নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকেও এগিয়ে নিয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং র্যান্ড কর্পোরেশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো উইলিয়াম কোর্টনি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার মনে হয় ইউক্রেনীয়রা ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাশিয়াকে ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা একটি ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের হামলাকে ওয়াশিংটন বেশ ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে।’

কোর্টনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাশিয়াকে ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ছিল। বর্তমানে রাশিয়ার একটি কারখানায় এই ড্রোনের উন্নত সংস্করণ তৈরি হচ্ছে। তাই এই সরবরাহ বন্ধে ইউক্রেনের আক্রমণ মার্কিন প্রশাসনকে স্বস্তি দেবে। তবে ইউক্রেনের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে সরাসরি জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘রাশিয়াকে ড্রোন পাঠানো ঠেকিয়ে ইউক্রেন নিজেদেরই উপকার করেছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের এক নম্বর শত্রু ইরানের ওপর আঘাত হেনে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক সুসংহত করছে, যা তাদের জন্য ইতিবাচক।’ তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ পশ্চিমাদের কাছে অপ্রিয় হওয়ায় ইউক্রেন এই সংঘাতে সরাসরি জড়াতে বা অতিরিক্ত প্রচার পেতে চাইবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এই মন্তব্য এমন সময়ে এল যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগ দিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছেছেন। সফরকালে তাদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।