ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের পথে? ইতিহাসে ফেরার ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্ববাসীকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ১৯৩৮ সালের ইউরোপ যখন যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি খুঁজছিল, তখন উইনস্টন চার্চিল সতর্ক করেছিলেন যে, অসম্মানজনক শান্তির পথ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধকেই ডেকে আনে। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও পরাশক্তিগুলোর সামরিক প্রস্তুতি এবং জ্বালানি করিডোর নিয়ে প্রতিযোগিতা গত শতকের সেই অস্থির সময়ের প্রতিধ্বনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই এখন প্রকাশ্যে বলছে যে তারা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। এক সময় মার্কিন নীতি ছিল দ্রুত যুদ্ধ থামানো এবং হরমুজ প্রণালি সচল রাখার মাধ্যমে জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বলছে, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। কূটনীতির পথ সংকুচিত হয়ে আসায় রণকৌশলেই বেশি মনোযোগী হচ্ছে দুই দেশ।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইতিহাস হুবহু পুনরাবৃত্তি না হলেও পরাশক্তিগুলোর কৌশলগত হিসাব-নিকাশ প্রায়ই একই ছাঁচে চলে। প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান কি সত্যিই শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, নাকি বড় কোনো যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার কৌশল? মধ্যপ্রাচ্যের এই অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো এখন বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৬ বছর ধরে পত্রিকা বিলি: কাপ্তাইয়ের মোহাম্মদ হোসেনের জীবনসংগ্রামের গল্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের পথে? ইতিহাসে ফেরার ইঙ্গিত

আপডেট সময় : ১২:০৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্ববাসীকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ১৯৩৮ সালের ইউরোপ যখন যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি খুঁজছিল, তখন উইনস্টন চার্চিল সতর্ক করেছিলেন যে, অসম্মানজনক শান্তির পথ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধকেই ডেকে আনে। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও পরাশক্তিগুলোর সামরিক প্রস্তুতি এবং জ্বালানি করিডোর নিয়ে প্রতিযোগিতা গত শতকের সেই অস্থির সময়ের প্রতিধ্বনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই এখন প্রকাশ্যে বলছে যে তারা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। এক সময় মার্কিন নীতি ছিল দ্রুত যুদ্ধ থামানো এবং হরমুজ প্রণালি সচল রাখার মাধ্যমে জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বলছে, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। কূটনীতির পথ সংকুচিত হয়ে আসায় রণকৌশলেই বেশি মনোযোগী হচ্ছে দুই দেশ।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইতিহাস হুবহু পুনরাবৃত্তি না হলেও পরাশক্তিগুলোর কৌশলগত হিসাব-নিকাশ প্রায়ই একই ছাঁচে চলে। প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান কি সত্যিই শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, নাকি বড় কোনো যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার কৌশল? মধ্যপ্রাচ্যের এই অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো এখন বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।