ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সাংবাদিক শফিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি: ঘেরাও কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ সাংবাদিক সমাজের আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সাংবাদিক নেতারা।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ বলেন, পুলিশের উচিত ছিল অতি উৎসাহী আচরণ না করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। কিন্তু তারা তা করেনি। সাংবাদিক গ্রেপ্তারের বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি অতিউৎসাহী ভূমিকায় ছিলেন।

তিনি সাংবাদিক সমাজকে উসকানি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে নিয়ে অতীতে নানা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। হাফিজুর রহমান শফিক একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত সাংবাদিক। তার প্রতিবেদনের সঙ্গে কারো দ্বিমত থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে জবাব দেওয়া বা আদালতে মানহানির মামলা করার সুযোগ ছিল।

এরফানুল হক নাহিদ আরও বলেন, আগামীকালের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে হাফিজুর রহমান শফিককে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মামলা করার উপাদান আছে—এ কথা শাহবাগ থানার ওসিকে কে বলেছেন, সেটি জানতে চাই। কারণ গত দেড় দশক ধরে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সংগঠনগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা তারা কল্পনাও করেননি।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কাউন্সিলর ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ মাসুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিজামুদ্দিন দরবেশ, রাজু আহমেদ, তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য এইচএম আল-আমিন, জুলাইযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিরোপা না জিতলেও বীরের সম্মান পাচ্ছেন মেসিরা: আর্জেন্টিনায় বিশেষ আয়োজন

সাংবাদিক শফিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি: ঘেরাও কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ সাংবাদিক সমাজের আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সাংবাদিক নেতারা।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ বলেন, পুলিশের উচিত ছিল অতি উৎসাহী আচরণ না করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। কিন্তু তারা তা করেনি। সাংবাদিক গ্রেপ্তারের বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি অতিউৎসাহী ভূমিকায় ছিলেন।

তিনি সাংবাদিক সমাজকে উসকানি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে নিয়ে অতীতে নানা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। হাফিজুর রহমান শফিক একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত সাংবাদিক। তার প্রতিবেদনের সঙ্গে কারো দ্বিমত থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে জবাব দেওয়া বা আদালতে মানহানির মামলা করার সুযোগ ছিল।

এরফানুল হক নাহিদ আরও বলেন, আগামীকালের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে হাফিজুর রহমান শফিককে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মামলা করার উপাদান আছে—এ কথা শাহবাগ থানার ওসিকে কে বলেছেন, সেটি জানতে চাই। কারণ গত দেড় দশক ধরে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সংগঠনগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা তারা কল্পনাও করেননি।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কাউন্সিলর ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ মাসুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিজামুদ্দিন দরবেশ, রাজু আহমেদ, তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য এইচএম আল-আমিন, জুলাইযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।