দেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বলেছেন, ধর্মের নামে নতুন বিভাজনের রাজনীতি তৈরির কোনো সুযোগ দেশে নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলাম ধর্মের জনসংখ্যা বেশি হলেও এ দেশে সবার সমান গুরুত্ব। ইসলাম ব্যতীত অন্য সব ধর্মের মানুষকে খাটো করার সুযোগ নেই বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
বুধবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার এসোসিয়েশন’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশে নতুন করে বিভাজনের রাজনীতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ। কোনো দল, যেমন বিএনপি বা জামায়াত, কোনো বিশেষ সুবিধা পাবে না। জনগণের ভালোবাসা দিয়েই নির্বাচিত হতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই গণতন্ত্রের ভিত্তি। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিয়ে একটি জাতীয় সংগঠন করা হবে এবং সেই সংগঠনের কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের ছোট দেশ হলেও সমস্যা অনেক। সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে সরকার কাজ শুরু করেছে। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় দেশ গঠনের কাজ চলছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন, যা এ বছরের মধ্যে ৪১ লক্ষ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় আনবে। এছাড়াও কৃষক কার্ড চালু করা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষক ঋণ মওকুফ করা, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতার ব্যবস্থা করা এবং খাল খনন শুরু করার মতো জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব কাজ জনগণের, তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের উপকারের কাজ, যা তাদের স্বস্তির জন্য। তিনি প্রস্তাব করেন যে, এসব উন্নয়নমূলক কাজে তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের এবং তৃণমূল নেতাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। এই কাজও শুরু হয়েছে। প্রতিটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হবে, কারণ এটি বেশি প্রয়োজন; অন্যথায় শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি হয় না। তিনি আরও বলেন, শুধু ইউএনও বা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে শক্তিশালী উন্নয়ন সম্ভব নয়। চেয়ারম্যান-মেম্বারদেরও ক্ষমতায়ন করতে হবে এবং তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ সঠিক নেতৃত্বের পথ বেছে নেয় এবং তৃণমূল নেতারাই দেশকে সবচেয়ে ভালো চেনেন।
রিপোর্টারের নাম 























