ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন ও বন্যায় রংপুর বিপর্যস্ত: ঘরবাড়ি বিলীন, সেতু হুমকিতে, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের টানা বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও অনেক এলাকায় এখনও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে।

এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তাদের বিদ্যালয়ে যেতে হাঁটুপানি মাড়িয়ে যেতে হচ্ছে, যা শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের হাত ধরে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন। কৃষিজমি পানির নিচে থাকায় আমন ধানের বীজতলা ও বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

সরেজমিনে নোহালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও তারও বেশি। শিক্ষার্থীরা জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে পানি পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও রোগীদেরও প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে পানি কিছুটা কমলেও নতুন করে দেখা দিয়েছে নদীভাঙনের ভয়াবহতা। নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী কাচারিপাড়া এলাকায় তিস্তার তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি শত শত বিঘা আবাদি জমিও নদীতে হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই ভাঙনের বিস্তার বাড়ছে।

সর্বস্ব হারানো মানুষজন শেষ সম্বল রক্ষায় ঘরের টিন খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ ইট, কাঠ ও গৃহস্থালির মালামাল নিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীতীরবর্তী পরিবারগুলোর।

পানি কিছুটা কমলেও নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সেতু রক্ষা বাঁধের অন্তত ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় মূল সড়ক, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু এবং রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার মধ্যকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ হুমকির মুখে পড়েছে। এতে নদীপাড়ের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো এক ভুক্তভোগী নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আল্লাহ ছাড়া এখন আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। আজ রাতে কী খাব, সেটাও জানি না। নদী আমার সোনার বাড়িঘর সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। এখন আমার ছোট ছোট সন্তানগুলো কী খেয়ে বাঁচবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেওয়ানগঞ্জে জিঞ্জিরাম নদীতে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন ও বন্যায় রংপুর বিপর্যস্ত: ঘরবাড়ি বিলীন, সেতু হুমকিতে, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের টানা বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও অনেক এলাকায় এখনও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে।

এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তাদের বিদ্যালয়ে যেতে হাঁটুপানি মাড়িয়ে যেতে হচ্ছে, যা শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের হাত ধরে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন। কৃষিজমি পানির নিচে থাকায় আমন ধানের বীজতলা ও বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

সরেজমিনে নোহালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও তারও বেশি। শিক্ষার্থীরা জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে পানি পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও রোগীদেরও প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে পানি কিছুটা কমলেও নতুন করে দেখা দিয়েছে নদীভাঙনের ভয়াবহতা। নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী কাচারিপাড়া এলাকায় তিস্তার তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি শত শত বিঘা আবাদি জমিও নদীতে হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই ভাঙনের বিস্তার বাড়ছে।

সর্বস্ব হারানো মানুষজন শেষ সম্বল রক্ষায় ঘরের টিন খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ ইট, কাঠ ও গৃহস্থালির মালামাল নিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীতীরবর্তী পরিবারগুলোর।

পানি কিছুটা কমলেও নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সেতু রক্ষা বাঁধের অন্তত ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় মূল সড়ক, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু এবং রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার মধ্যকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ হুমকির মুখে পড়েছে। এতে নদীপাড়ের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো এক ভুক্তভোগী নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আল্লাহ ছাড়া এখন আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। আজ রাতে কী খাব, সেটাও জানি না। নদী আমার সোনার বাড়িঘর সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। এখন আমার ছোট ছোট সন্তানগুলো কী খেয়ে বাঁচবে।”