নাটোরে এক ভ্যানচালককে হত্যা করে চার্জার ভ্যান ছিনতাইয়ের মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর এক আসামিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। উভয় দণ্ড একই সঙ্গে কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।
বুধবার বিকেলে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বেগুনিয়া গ্রামের মো. শরিফুল ইসলাম, মাজেদুল মন্ডল ও মো. রানা এবং কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটের লিটন ওরফে মিঠন মন্ডল। পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন রাজশাহী জেলার বাঘা এলাকার মো. শওকত আলী মন্ডল। আসামিদের মধ্যে মো. রানা শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের দিন থেকে সাজা কার্যকর হবে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বেড়েরবাড়ী গ্রামের জিয়া সর্দারের ১৬ বছর বয়সী ছেলে মো. প্রান্ত সড়কে চার্জার ভ্যান চালাতেন। ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে তিন ব্যক্তি আড়ানী বাজার থেকে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা বাজারে যাওয়ার কথা বলে তার ভ্যানটি ভাড়া করেন।
ওই রাতে প্রান্ত আর বাড়ি ফেরেননি এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে হাত-পা বাঁধা এবং মুখে কাপড় গুঁজে শ্বাসরোধে হত্যা করা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত প্রান্তের বাবা জিয়া সর্দার ওইদিনই বাগাতিপাড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। আসামিরা আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বুধবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আরও বলা হয়েছে, অর্থদণ্ড আদায় সাপেক্ষে মোট অর্থের মধ্যে তিন লাখ টাকা মামলার ব্যয়ভার হিসেবে আদালতে রাখা হবে। অবশিষ্ট অর্থ বাদীকে প্রদান করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























