ঢাকা ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

চসিকের পদোন্নতিতে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রকৌশল বিভাগে অতিরিক্ত দায়িত্বের নামে দেওয়া পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত না করেই সংস্থাটির সচিব আশরাফুল আমিন নিয়মবহির্ভূতভাবে ছয়জনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছেন। শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অর্গানোগ্রাম এবং জ্যেষ্ঠতার নিয়ম লঙ্ঘন করে এই পদোন্নতি দেওয়ায় চসিকের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিবাদ বাড়ছে, যা কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে এবং চসিকের মতো একটি সেবা সংস্থার ভাবমূর্তি সংকটে ফেলতে পারে।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিভাগে সহকারী প্রকৌশলীর ১৪টি পদ রয়েছে, যার কোনোটি বর্তমানে শূন্য নেই। বিদ্যমান অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, মোট পদের ৬৭ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং ৩৩ শতাংশ অভ্যন্তরীণ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি ছয়জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে পদোন্নতির নামে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ছয়জনই ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী প্রকৌশলী। এছাড়া, গত ১৪ জুন জ্যেষ্ঠতার তালিকায় নবম স্থানে থাকা সহকারী প্রকৌশলী (পুর) জাহিদুর রশিদ ভূঁইয়াকে আটজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা প্রকৌশল বিভাগে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে, চাকরিতে অস্থায়ী হওয়া সত্ত্বেও তাসমিয়াহ তাহসীন নামের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী এবং কন্ট্রোলার অব স্টোর পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। চসিকের চাকরি বিধিতে কোনো অস্থায়ী কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার বিধান নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভাগে কোনো পদ খালি না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই দায়িত্বগুলো দেওয়া হলো, তা নিয়ে পুরো সিটি করপোরেশনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এই প্রক্রিয়ায় মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মূল পদ উপসহকারী প্রকৌশলী হলেও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কখনো আগের পদ ধারণ করেন না। ১৪টি পদ পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও ছয়জনকে অতিরিক্ত দায়িত্বে আনায় প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত যোগ্য কর্মকর্তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিত্যক্ত লাইফবোটে কোটি টাকার ব্যবসা: সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙা শিল্পের নতুন দিগন্ত

চসিকের পদোন্নতিতে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ

আপডেট সময় : ০১:৫৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রকৌশল বিভাগে অতিরিক্ত দায়িত্বের নামে দেওয়া পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত না করেই সংস্থাটির সচিব আশরাফুল আমিন নিয়মবহির্ভূতভাবে ছয়জনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছেন। শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অর্গানোগ্রাম এবং জ্যেষ্ঠতার নিয়ম লঙ্ঘন করে এই পদোন্নতি দেওয়ায় চসিকের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিবাদ বাড়ছে, যা কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে এবং চসিকের মতো একটি সেবা সংস্থার ভাবমূর্তি সংকটে ফেলতে পারে।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিভাগে সহকারী প্রকৌশলীর ১৪টি পদ রয়েছে, যার কোনোটি বর্তমানে শূন্য নেই। বিদ্যমান অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, মোট পদের ৬৭ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং ৩৩ শতাংশ অভ্যন্তরীণ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি ছয়জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে পদোন্নতির নামে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ছয়জনই ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী প্রকৌশলী। এছাড়া, গত ১৪ জুন জ্যেষ্ঠতার তালিকায় নবম স্থানে থাকা সহকারী প্রকৌশলী (পুর) জাহিদুর রশিদ ভূঁইয়াকে আটজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা প্রকৌশল বিভাগে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে, চাকরিতে অস্থায়ী হওয়া সত্ত্বেও তাসমিয়াহ তাহসীন নামের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী এবং কন্ট্রোলার অব স্টোর পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। চসিকের চাকরি বিধিতে কোনো অস্থায়ী কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার বিধান নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভাগে কোনো পদ খালি না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই দায়িত্বগুলো দেওয়া হলো, তা নিয়ে পুরো সিটি করপোরেশনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এই প্রক্রিয়ায় মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মূল পদ উপসহকারী প্রকৌশলী হলেও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কখনো আগের পদ ধারণ করেন না। ১৪টি পদ পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও ছয়জনকে অতিরিক্ত দায়িত্বে আনায় প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত যোগ্য কর্মকর্তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।