ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

শহীদদের স্বপ্নপূরণে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

১১ দলীয় ঐক্যের নারীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে আবু সাঈদসহ তরুণদের রক্তদানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহীতামূলক ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র সংস্কার ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা। শহীদদের সেই স্বপ্ন পূরণে অবিলম্বে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানানো হয়। এই লক্ষ্য অর্জনে ১১ দলের ঐক্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা রোকেয়া বেগম এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এমপি বলেন, জনগণ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি প্রথম বেইমানি করেছে। তিনি আরও বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে পারি, তবে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্যও আরেকটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

সরকারের সমালোচনা করে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, যদি জুলাই সনদ অবৈধ হয়, তবে এই সরকার এবং এর মন্ত্রিসভাও অবৈধ। অবিলম্বে সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান তিনি। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব। সংসদে না হলে রাজপথে এর সমাধান হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাইদা রুম্মান বলেন, চব্বিশের গণআন্দোলন ছিল একটি বিপ্লব ও দ্রোহের প্রতীক, যার ফলে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। অথচ এই সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তালবাহানা করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের সকল দাবি আদায় করতে সক্ষম হব।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মনিরা শারমিন এমপি বলেন, সাধারণ মানুষ জুলাইয়ের ঘটনা ভুলে গেলেও শহীদ পরিবারগুলো তা কখনো ভুলবে না। জুলাইয়ের এই শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে এবং শাপলা ও চব্বিশের ত্যাগের মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি সকল ভেদাভেদ ভুলে এক সুরে কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না। তবে, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসি পরীক্ষায় সাত লাখ অনুপস্থিতি ও শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সংকট

শহীদদের স্বপ্নপূরণে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

আপডেট সময় : ০৮:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

১১ দলীয় ঐক্যের নারীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে আবু সাঈদসহ তরুণদের রক্তদানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহীতামূলক ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র সংস্কার ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা। শহীদদের সেই স্বপ্ন পূরণে অবিলম্বে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানানো হয়। এই লক্ষ্য অর্জনে ১১ দলের ঐক্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা রোকেয়া বেগম এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এমপি বলেন, জনগণ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি প্রথম বেইমানি করেছে। তিনি আরও বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে পারি, তবে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্যও আরেকটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

সরকারের সমালোচনা করে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, যদি জুলাই সনদ অবৈধ হয়, তবে এই সরকার এবং এর মন্ত্রিসভাও অবৈধ। অবিলম্বে সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান তিনি। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব। সংসদে না হলে রাজপথে এর সমাধান হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাইদা রুম্মান বলেন, চব্বিশের গণআন্দোলন ছিল একটি বিপ্লব ও দ্রোহের প্রতীক, যার ফলে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। অথচ এই সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তালবাহানা করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের সকল দাবি আদায় করতে সক্ষম হব।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মনিরা শারমিন এমপি বলেন, সাধারণ মানুষ জুলাইয়ের ঘটনা ভুলে গেলেও শহীদ পরিবারগুলো তা কখনো ভুলবে না। জুলাইয়ের এই শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে এবং শাপলা ও চব্বিশের ত্যাগের মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি সকল ভেদাভেদ ভুলে এক সুরে কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না। তবে, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।