আমেরিকা যখন ‘ওয়ার অন টেরর’ শুরু করে আফগানিস্তানে তালিবান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে, তখন পাকিস্তান আমেরিকার সহযোগী ছিল। কিন্তু আফগানিস্তানের জনগণের স্বশাসনের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন আমেরিকাকে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে উৎসাহিত করে। এই ঘটনা ছিল ওয়াশিংটন-দিল্লি মিত্রতার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়।
আফগানিস্তানে আমেরিকার ব্যস্ততার সুযোগে, ভারত বাংলাদেশে কথিত জঙ্গিবাদ মোকাবিলার অভিযোগ তুলে আমেরিকার কাছে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে। এর ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে ওয়ান-ইলেভেনের সেনাসমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর ভারতের রাজনীতিক প্রণব মুখার্জির উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে সরকার গঠন করে। ভারতের গণমাধ্যম এবং তাদের সহযোগী মিডিয়াগুলো বাংলাদেশে কাল্পনিক জঙ্গিবাদ ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে, যা আওয়ামী লীগকে ভারতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
২০০১-০৬ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামে একটি জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় হয়ে ওঠে, যার প্রধান ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আযমের আত্মীয় শায়খ আবদুর রহমান। অন্যদিকে, সিদ্দিকুর রহমান, যিনি ‘বাংলা ভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং সোভিয়েতবিরোধী আফগান যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তিনি প্রথম আলো পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নামক ভারতীয় ‘নেসেসারি ইলিউশন’-এর নায়ক থেকে খলনায়কে পরিণত হন। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলেই বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহসিকতায় এই কথিত জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়। এই জঙ্গিবাদ নির্মূল অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কর্নেল গুলজার ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যাযজ্ঞে নিহত হন, যেখানে ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
প্রখ্যাত ভারতীয় দার্শনিক চাণক্য বলেছিলেন, প্রতিবেশী শত্রু রাজ্যের অন্যদিকের রাজ্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে তারপর সেখান থেকে আঘাত হানা উচিত। এই নীতি অনুসরণ করে, চিরশত্রু পাকিস্তানের অন্যদিকের দেশ আফগানিস্তানে পাকিস্তান সীমান্ত ঘেঁষে ভারত বেশ কয়েকটি কনস্যুলেট স্থাপন করে। আমেরিকার তত্ত্বাবধানে আফগানিস্তান পুনর্গঠনে ভারত সেখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শিক্ষক পাঠায়। ভারতের শিক্ষকরা তাঁদের নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের জন্য পরিচিত, যা আফগানিস্তানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
রিপোর্টারের নাম 
























