দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানার উপকূলে ১১৬ জন যাত্রী ও নাবিক বহনকারী একটি ফেরি ডুবে গেছে। এ পর্যন্ত ১৫ শিশুসহ মোট ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এটি গায়ানার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলছে।
এমভি বারিমা নামের ফেরিটি স্থানীয় সময় শনিবার প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে রাজধানী জর্জটাউন থেকে তেলসমৃদ্ধ এসেকুইবো অঞ্চলের পোর্ট কাইটুমার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এই এলাকাটি ভেনেজুয়েলা সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। রাত ১১টার কিছু পর ফেরিটি থেকে বিপদসংকেত পাওয়া গেলে গায়ানা ডিফেন্স ফোর্সের কোস্ট গার্ড ও এয়ার কর্পস, বেসরকারি বিমান, মাছ ধরার নৌযান এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
গায়ানার জনপূর্তমন্ত্রী হুয়ান এডগিল জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ফেরিটি অনুমোদিত ধারণক্ষমতার মধ্যেই চলাচল করছিল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইঞ্জিন বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামালও ছিল না। মূলত জোয়ারের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’ মন্ত্রী আরও জানান, এমভি বারিমা ৩৯৭ জন যাত্রী এবং ২৮৪ টন পণ্য বহনের অনুমোদনপ্রাপ্ত ছিল। দুর্ঘটনার সময় এতে ২৬৮ টন পণ্য ছিল, যা অনুমোদিত সীমার নিচে। ফেরিটিতে ২৫০টি লাইফ জ্যাকেট, দুটি লাইফবোট এবং ছয়টি ইনফ্ল্যাটেবল লাইফ র্যাফট ছিল।
রোববার এক বিবৃতিতে গায়ানার প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে অনুসন্ধান এলাকা ৪০০ বর্গকিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৭০ বর্গকিলোমিটার করা হয়েছে। অতিরিক্ত বিমান ও নৌযান মোতায়েনের পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদেরও উদ্ধারকাজে যুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৬৭ জনের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ১৫ জন শিশু রয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে গভীর শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 






















