ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

পুলিশের গুলিতে নিহত পুলিশপুত্র ইমাম হাসান, ‘একজনকে মারতে কতগুলো গুলি লাগে স্যার?’

রাজধানীর উত্তাল চব্বিশে (২০ জুলাই) পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী পুলিশপুত্র ইমাম হাসান ভূঁইয়া তাইম। তার স্বপ্ন ছিল বাবার মতো পুলিশ হয়ে দেশের সেবা করা। কিন্তু যে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল তার, সেই পুলিশের গুলিতেই প্রাণ হারান তিনি। এই ঘটনায় হতবাক তার পরিবার ও সহপাঠীরা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যৌক্তিক ৯ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে সরকার ২০ জুলাই কারফিউ জারি করে। এই কারফিউ উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত পুলিশের জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) ময়নুল হোসেনের ছেলে তাইম, তার বন্ধুদের সাথে যাত্রাবাড়ীর সড়কে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণে যাত্রাবাড়ীর সড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। কাজলা এলাকায় পুলিশের বেপরোয়া গুলি দেখে প্রাণ বাঁচাতে তাইম ও তার বন্ধুরা পাশের লিটন স্টোরে আশ্রয় নেয়। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা তাদের সেখান থেকে বের করে এনে মারধর করে।

তাইমের সহযোদ্ধা ও বন্ধু রাহাত হোসাইন জানান, পুলিশ দোকানে ঢুকে দোকানিকে মারধর করে এবং তারপর তাইম ও তাকেও মারধর করে। চারজন পুলিশ সদস্য তাদের ধরে রাখে। ভয়ে তাদের হাত-পা কাঁপছিল। পুলিশ তাদের দৌড়াতে বলে। তাইম দৌড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পেছন থেকে দুজন তাকে গুলি করে। গুলি তার শরীরের পেছন দিয়ে ঢুকে সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়। তাইম দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লিতে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর: নিট বিতর্ক ও কৃষকদের আন্দোলনে উত্তপ্ত রাজধানী

পুলিশের গুলিতে নিহত পুলিশপুত্র ইমাম হাসান, ‘একজনকে মারতে কতগুলো গুলি লাগে স্যার?’

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর উত্তাল চব্বিশে (২০ জুলাই) পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী পুলিশপুত্র ইমাম হাসান ভূঁইয়া তাইম। তার স্বপ্ন ছিল বাবার মতো পুলিশ হয়ে দেশের সেবা করা। কিন্তু যে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল তার, সেই পুলিশের গুলিতেই প্রাণ হারান তিনি। এই ঘটনায় হতবাক তার পরিবার ও সহপাঠীরা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যৌক্তিক ৯ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে সরকার ২০ জুলাই কারফিউ জারি করে। এই কারফিউ উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত পুলিশের জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) ময়নুল হোসেনের ছেলে তাইম, তার বন্ধুদের সাথে যাত্রাবাড়ীর সড়কে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণে যাত্রাবাড়ীর সড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। কাজলা এলাকায় পুলিশের বেপরোয়া গুলি দেখে প্রাণ বাঁচাতে তাইম ও তার বন্ধুরা পাশের লিটন স্টোরে আশ্রয় নেয়। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা তাদের সেখান থেকে বের করে এনে মারধর করে।

তাইমের সহযোদ্ধা ও বন্ধু রাহাত হোসাইন জানান, পুলিশ দোকানে ঢুকে দোকানিকে মারধর করে এবং তারপর তাইম ও তাকেও মারধর করে। চারজন পুলিশ সদস্য তাদের ধরে রাখে। ভয়ে তাদের হাত-পা কাঁপছিল। পুলিশ তাদের দৌড়াতে বলে। তাইম দৌড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পেছন থেকে দুজন তাকে গুলি করে। গুলি তার শরীরের পেছন দিয়ে ঢুকে সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়। তাইম দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।