ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নতুন মামলার প্রস্তুতি: অবৈধ দেশত্যাগের অভিযোগ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অবৈধভাবে দেশত্যাগের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হতে পারে। অভিবাসী আইন ২০১৩ অনুযায়ী ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে দেশত্যাগের অভিযোগ আনা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্ট বেলা ৩টা ৯ মিনিটে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ঢাকার বীরউত্তম একে খন্দকার বিমানঘাঁটি (তৎকালীন বঙ্গবন্ধু বিমানঘাঁটি) থেকে বিমানে ওঠেন। যদিও শেখ হাসিনার কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং শেখ রেহানার কাছে ব্রিটিশ পাসপোর্ট ছিল, কিন্তু তারা ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই দেশত্যাগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পলায়নের ঘটনায় সহায়তাকারীদেরও মামলায় যুক্ত করা হতে পারে।

অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থার একটি সূত্র জানিয়েছে, কেবল বিমানবন্দর বা অনুমোদিত চেকপোস্ট দিয়ে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করেই বিদেশে যাওয়া আইনসিদ্ধ। ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোনো স্থান দিয়ে বা নিয়ম অমান্য করে দেশত্যাগ করলে তা অবৈধ ও বেআইনি বলে গণ্য হয়। এমন ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর আগেও শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এছাড়াও দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা দুজনেই দণ্ডিত পলাতক আসামি। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলেও শেখ রেহানার অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই তদন্তকারী দলের কাছে। তবে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের নাগরিক শেখ রেহানা বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন এবং মাঝে মাঝে ভারতে যাতায়াত করেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বাইরে নানা আলোচনা থাকলেও ভারতে পলায়নের সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনা নিজেই নিয়েছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজুড়ে ফেসবুকের ডেস্কটপ ভার্সনে বিভ্রাট: ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নতুন মামলার প্রস্তুতি: অবৈধ দেশত্যাগের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৪০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অবৈধভাবে দেশত্যাগের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হতে পারে। অভিবাসী আইন ২০১৩ অনুযায়ী ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে দেশত্যাগের অভিযোগ আনা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্ট বেলা ৩টা ৯ মিনিটে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ঢাকার বীরউত্তম একে খন্দকার বিমানঘাঁটি (তৎকালীন বঙ্গবন্ধু বিমানঘাঁটি) থেকে বিমানে ওঠেন। যদিও শেখ হাসিনার কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং শেখ রেহানার কাছে ব্রিটিশ পাসপোর্ট ছিল, কিন্তু তারা ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই দেশত্যাগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পলায়নের ঘটনায় সহায়তাকারীদেরও মামলায় যুক্ত করা হতে পারে।

অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থার একটি সূত্র জানিয়েছে, কেবল বিমানবন্দর বা অনুমোদিত চেকপোস্ট দিয়ে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করেই বিদেশে যাওয়া আইনসিদ্ধ। ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোনো স্থান দিয়ে বা নিয়ম অমান্য করে দেশত্যাগ করলে তা অবৈধ ও বেআইনি বলে গণ্য হয়। এমন ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর আগেও শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এছাড়াও দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা দুজনেই দণ্ডিত পলাতক আসামি। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলেও শেখ রেহানার অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই তদন্তকারী দলের কাছে। তবে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের নাগরিক শেখ রেহানা বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন এবং মাঝে মাঝে ভারতে যাতায়াত করেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বাইরে নানা আলোচনা থাকলেও ভারতে পলায়নের সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনা নিজেই নিয়েছিলেন।