ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে সাতটি পথে অস্ত্র ঢুকছে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১০:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের সাতটি ভিন্ন পথ ব্যবহার করে দেশে অবৈধ অস্ত্রের চালান প্রবেশ করছে। এই অস্ত্র ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে কমপক্ষে পাঁচটি চক্র, যার প্রত্যেকটিতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গারা জড়িত। অস্ত্রের চালানগুলোর প্রধান গন্তব্য হলো কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং তিন পার্বত্য জেলার সন্ত্রাসীদের আস্তানা।

সীমান্তরক্ষী বাহিনী, রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বিজিবি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে মিয়ানমার থেকে দেশে অস্ত্র চালানের এই তথ্যগুলো জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার থেকে যেভাবে অস্ত্র ঢুকছে, এমন পরিস্থিতি কয়েক বছর আগেও ছিল না। বর্তমানে মাদকের চালানের পাশাপাশি অস্ত্র আনা হচ্ছে। এমনকি মানবপাচারকারী চক্রগুলোও এখন অস্ত্র কারবারে জড়িয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, গত ৫ অক্টোবর ভোররাতে উখিয়া সীমান্তের পালংখালী ইউনিয়নের মরাগাছতলায় উখিয়া থানার পুলিশ অভিযান চালায়। সেই অভিযানে দুটি অগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি কার্তুজ এবং দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। পাচারকারীরা এই অস্ত্র ও মাদক মিয়ানমার সীমান্ত থেকে নিয়ে এসেছিল। তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সীমান্তের খুব কাছাকাছি হওয়ায় মায়ানমার থেকে সহজেই অস্ত্র পাচার করা সংশ্লিষ্ট চক্রগুলোর জন্য সহজ হয়ে উঠেছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কক্সবাজারের রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে অস্ত্র এখানে আনার পর পাচারকারীরা তা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সীমান্তের পয়েন্টগুলোতে বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত তিন মাসে বিজিবি সদস্যরা ২২টিরও বেশি দেশি-বিদেশি অস্ত্রের চালান আটক করেছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটারের সাতটি পথে পাচারকারীরা অস্ত্র নিয়ে আসে। এই পথগুলোর পয়েন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে—নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি, ঘুমধুম পয়েন্টের বালুখালী কাস্টমস ঘাট, উখিয়ার পালংখালী এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নলবনিয়া।

বাইশফাঁড়ি এলাকার পথটি খুবই দুর্গম, গহিন এবং পাহাড়ি। এই এলাকার চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা নৃগোষ্ঠীর লোকজনও অস্ত্রপাচারে জড়িত রয়েছে। এই স্থান দিয়ে বেশির ভাগ অস্ত্র তিন পার্বত্য চট্টগ্রামের অরণ্যে থাকা সন্ত্রাসীদের কাছে যায়। অন্য দুটি পয়েন্ট দিয়ে আনা অস্ত্র রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে যায়। এ ছাড়া নাফ নদী ব্যবহার করে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং, উলুবনিয়া, এবং টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা-দমদমিয়া-জাদিমুরা-নয়াপড়া এবং টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বরইতলী খাল দিয়ে অস্ত্র আনা হয়। রোহিঙ্গারা মূলত এসব চোরাই পথের বিভিন্ন স্থান ব্যবহার করে অস্ত্র পাচার করে থাকে। তবে জাদিমুরা পয়েন্টে স্থানীয় বাসিন্দা কালু রোহিঙ্গাদের সাথে এই কাজে জড়িত আছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে দেশে অস্ত্র পাচারে পাঁচটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে চারটি দল হলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সশস্ত্র গোষ্ঠী। এই দলগুলো হলো—আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা), রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসী হালিমের নেতৃত্বাধীন হালিম গ্রুপ এবং নবী হোসেন গ্রুপ। এ ছাড়াও খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের অরণ্যে থাকা সন্ত্রাসীদের একটি বড় চক্র রয়েছে। এই চক্রের সদস্য সংখ্যা শতাধিক বলে জানা গেছে।

সাধারণ রোহিঙ্গারা জানায়, নতুন করে সক্রিয় হালিম গ্রুপের প্রধান কেফায়েত উল্লাহ ওরফে আব্দুল হালিম থাকেন উখিয়ার কুতুপালংয়ের ক্যাম্প-৭-এ। সেখানেই নৌকার মাঠ এলাকায় তিনি একটি আস্তানা গড়ে তুলেছেন। কালের কণ্ঠের হাতে আসা ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারির একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিয়ানমারের রাখাইনের বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকার মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) ঢেকিবনিয়া ঘাঁটি থেকে লুট করা অস্ত্রের ভিডিও করেছেন হালিম নিজেই। বিজিপির সেই ঘাঁটি থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র কৌশলে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন হালিম।

এদিকে র‌্যাব-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে র‌্যাবের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নানা অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে। গত দেড় বছরে র‌্যাব-১৫-এর অভিযানে ২১টি বিদেশি অস্ত্রসহ মোট এক হাজার ২৭৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৬৩ জন অস্ত্রধারীকে আটক করা হয়েছে।

মিয়ানমারে অবৈধ অস্ত্রের উৎস: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য (আরাকান) থেকে ২০১৭ সালে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর থেকেই আরাকান আর্মির কার্যক্রম শুরু হয়। আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যকে মিয়ানমার থেকে আলাদা করার জন্য ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে সহিংস যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আরাকান আর্মি বাংলাদেশ-মিয়ানমার ২৭১ কিলোমিটার সীমান্তের ওপারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় পুরোটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তারা মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি ও মিয়ানমার সেনাদের ঘাঁটিও দখল করে। মিয়ানমার বাহিনীর কয়েকশ’ সদস্য প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এই সময়ে রোহিঙ্গাদের আরসা ও আরএসও-এর সশস্ত্র সদস্যরা সুযোগ বুঝে মিয়ানমার বাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্রশস্ত্র লুটে নেয়। আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার বাহিনীর সহিংসতায় মিয়ানমার থেকে আরাকানে খাদ্যসামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আরাকানে খাদ্যসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দেয়। এই সংকটের কারণে আরাকান আর্মি মিয়ানমার বাহিনীর ঘাঁটি থেকে লুট করা অস্ত্রশস্ত্র বাংলাদেশের বিভিন্ন অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করা শুরু করে। এপারের খাদ্য ও নিত্যপণ্যের বিনিময়েও আরাকান আর্মি অস্ত্র বিনিময় করতে থাকে। এই অস্ত্রগুলোর বেশিরভাগই পাচার করে আনে রোহিঙ্গারা।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, স্থানীয় জামায়াত নেতা তোফাইল আহমদ একটি সভায় বলেছেন, “বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে আরাকানে নিত্যপণ্য পাচার এতটাই বেড়েছে যে, কক্সবাজারের ‘হাজী বিরিয়ানি’ দিয়ে আরাকান আর্মির সকালের নাশতা সারা হচ্ছে।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে সাতটি পথে অস্ত্র ঢুকছে

আপডেট সময় : ১০:১০:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের সাতটি ভিন্ন পথ ব্যবহার করে দেশে অবৈধ অস্ত্রের চালান প্রবেশ করছে। এই অস্ত্র ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে কমপক্ষে পাঁচটি চক্র, যার প্রত্যেকটিতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গারা জড়িত। অস্ত্রের চালানগুলোর প্রধান গন্তব্য হলো কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং তিন পার্বত্য জেলার সন্ত্রাসীদের আস্তানা।

সীমান্তরক্ষী বাহিনী, রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বিজিবি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে মিয়ানমার থেকে দেশে অস্ত্র চালানের এই তথ্যগুলো জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার থেকে যেভাবে অস্ত্র ঢুকছে, এমন পরিস্থিতি কয়েক বছর আগেও ছিল না। বর্তমানে মাদকের চালানের পাশাপাশি অস্ত্র আনা হচ্ছে। এমনকি মানবপাচারকারী চক্রগুলোও এখন অস্ত্র কারবারে জড়িয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, গত ৫ অক্টোবর ভোররাতে উখিয়া সীমান্তের পালংখালী ইউনিয়নের মরাগাছতলায় উখিয়া থানার পুলিশ অভিযান চালায়। সেই অভিযানে দুটি অগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি কার্তুজ এবং দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। পাচারকারীরা এই অস্ত্র ও মাদক মিয়ানমার সীমান্ত থেকে নিয়ে এসেছিল। তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সীমান্তের খুব কাছাকাছি হওয়ায় মায়ানমার থেকে সহজেই অস্ত্র পাচার করা সংশ্লিষ্ট চক্রগুলোর জন্য সহজ হয়ে উঠেছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কক্সবাজারের রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে অস্ত্র এখানে আনার পর পাচারকারীরা তা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সীমান্তের পয়েন্টগুলোতে বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত তিন মাসে বিজিবি সদস্যরা ২২টিরও বেশি দেশি-বিদেশি অস্ত্রের চালান আটক করেছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটারের সাতটি পথে পাচারকারীরা অস্ত্র নিয়ে আসে। এই পথগুলোর পয়েন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে—নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি, ঘুমধুম পয়েন্টের বালুখালী কাস্টমস ঘাট, উখিয়ার পালংখালী এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নলবনিয়া।

বাইশফাঁড়ি এলাকার পথটি খুবই দুর্গম, গহিন এবং পাহাড়ি। এই এলাকার চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা নৃগোষ্ঠীর লোকজনও অস্ত্রপাচারে জড়িত রয়েছে। এই স্থান দিয়ে বেশির ভাগ অস্ত্র তিন পার্বত্য চট্টগ্রামের অরণ্যে থাকা সন্ত্রাসীদের কাছে যায়। অন্য দুটি পয়েন্ট দিয়ে আনা অস্ত্র রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে যায়। এ ছাড়া নাফ নদী ব্যবহার করে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং, উলুবনিয়া, এবং টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা-দমদমিয়া-জাদিমুরা-নয়াপড়া এবং টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বরইতলী খাল দিয়ে অস্ত্র আনা হয়। রোহিঙ্গারা মূলত এসব চোরাই পথের বিভিন্ন স্থান ব্যবহার করে অস্ত্র পাচার করে থাকে। তবে জাদিমুরা পয়েন্টে স্থানীয় বাসিন্দা কালু রোহিঙ্গাদের সাথে এই কাজে জড়িত আছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে দেশে অস্ত্র পাচারে পাঁচটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে চারটি দল হলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সশস্ত্র গোষ্ঠী। এই দলগুলো হলো—আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা), রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসী হালিমের নেতৃত্বাধীন হালিম গ্রুপ এবং নবী হোসেন গ্রুপ। এ ছাড়াও খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের অরণ্যে থাকা সন্ত্রাসীদের একটি বড় চক্র রয়েছে। এই চক্রের সদস্য সংখ্যা শতাধিক বলে জানা গেছে।

সাধারণ রোহিঙ্গারা জানায়, নতুন করে সক্রিয় হালিম গ্রুপের প্রধান কেফায়েত উল্লাহ ওরফে আব্দুল হালিম থাকেন উখিয়ার কুতুপালংয়ের ক্যাম্প-৭-এ। সেখানেই নৌকার মাঠ এলাকায় তিনি একটি আস্তানা গড়ে তুলেছেন। কালের কণ্ঠের হাতে আসা ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারির একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিয়ানমারের রাখাইনের বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকার মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) ঢেকিবনিয়া ঘাঁটি থেকে লুট করা অস্ত্রের ভিডিও করেছেন হালিম নিজেই। বিজিপির সেই ঘাঁটি থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র কৌশলে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন হালিম।

এদিকে র‌্যাব-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে র‌্যাবের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নানা অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে। গত দেড় বছরে র‌্যাব-১৫-এর অভিযানে ২১টি বিদেশি অস্ত্রসহ মোট এক হাজার ২৭৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৬৩ জন অস্ত্রধারীকে আটক করা হয়েছে।

মিয়ানমারে অবৈধ অস্ত্রের উৎস: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য (আরাকান) থেকে ২০১৭ সালে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর থেকেই আরাকান আর্মির কার্যক্রম শুরু হয়। আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যকে মিয়ানমার থেকে আলাদা করার জন্য ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে সহিংস যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আরাকান আর্মি বাংলাদেশ-মিয়ানমার ২৭১ কিলোমিটার সীমান্তের ওপারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় পুরোটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তারা মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি ও মিয়ানমার সেনাদের ঘাঁটিও দখল করে। মিয়ানমার বাহিনীর কয়েকশ’ সদস্য প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এই সময়ে রোহিঙ্গাদের আরসা ও আরএসও-এর সশস্ত্র সদস্যরা সুযোগ বুঝে মিয়ানমার বাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্রশস্ত্র লুটে নেয়। আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার বাহিনীর সহিংসতায় মিয়ানমার থেকে আরাকানে খাদ্যসামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আরাকানে খাদ্যসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দেয়। এই সংকটের কারণে আরাকান আর্মি মিয়ানমার বাহিনীর ঘাঁটি থেকে লুট করা অস্ত্রশস্ত্র বাংলাদেশের বিভিন্ন অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করা শুরু করে। এপারের খাদ্য ও নিত্যপণ্যের বিনিময়েও আরাকান আর্মি অস্ত্র বিনিময় করতে থাকে। এই অস্ত্রগুলোর বেশিরভাগই পাচার করে আনে রোহিঙ্গারা।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, স্থানীয় জামায়াত নেতা তোফাইল আহমদ একটি সভায় বলেছেন, “বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে আরাকানে নিত্যপণ্য পাচার এতটাই বেড়েছে যে, কক্সবাজারের ‘হাজী বিরিয়ানি’ দিয়ে আরাকান আর্মির সকালের নাশতা সারা হচ্ছে।”