ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

দারিদ্র্য জয় করে স্বপনের জ্ঞানের ফেরিওয়ালা হয়ে ওঠার গল্প: ‘গুঞ্জন পাঠাগার’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সুহাতা গ্রামের এক নিভৃত পল্লীতে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে ‘গুঞ্জন পাঠাগার’। মাত্র তিনটি বই নিয়ে ২০০৪ সালে শুরু হওয়া এই পাঠাগারটি আজ প্রায় ১৫ হাজার বইয়ের এক বিশাল সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে। এই অসাধ্য সাধনের কারিগর হলেন স্বপন মিয়া, যিনি এলাকায় ‘বই মজুর’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে গড়ে তোলা তার এই পাঠাগার এখন হাজারো শিক্ষার্থীর অনুপ্রেরণার উৎস।

স্বপন মিয়ার জীবনসংগ্রাম ছিল অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ। মাত্র দেড় বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর তার মা দিনমজুরি করে সন্তানদের বড় করেছেন। সংসারের অভাব মেটাতে দুই ভাই রিকশা চালালেও স্বপন বেছে নিয়েছিলেন বইয়ের জগতকে। একসময় রিকশা চালিয়ে বা পান-সিগারেট বিক্রি করে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি তিল তিল করে এই পাঠাগারটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি একটি কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত থাকলেও তার আয়ের বড় একটি অংশ ব্যয় করেন এই পাঠাগারের রক্ষণাবেক্ষণে।

২২ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়ে যাওয়া এই পাঠাগারটি এখন এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসাস্থল। প্রতি শুক্রবার এখানে পাঠচক্র ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্বপন মিয়ার লক্ষ্য, অর্থের অভাবে যেন কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়। নিজের ভিটেমাটির ওপর গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানটিই এখন তার জীবনের সবটুকু জুড়ে রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈরী আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত

দারিদ্র্য জয় করে স্বপনের জ্ঞানের ফেরিওয়ালা হয়ে ওঠার গল্প: ‘গুঞ্জন পাঠাগার’

আপডেট সময় : ১১:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সুহাতা গ্রামের এক নিভৃত পল্লীতে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে ‘গুঞ্জন পাঠাগার’। মাত্র তিনটি বই নিয়ে ২০০৪ সালে শুরু হওয়া এই পাঠাগারটি আজ প্রায় ১৫ হাজার বইয়ের এক বিশাল সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে। এই অসাধ্য সাধনের কারিগর হলেন স্বপন মিয়া, যিনি এলাকায় ‘বই মজুর’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে গড়ে তোলা তার এই পাঠাগার এখন হাজারো শিক্ষার্থীর অনুপ্রেরণার উৎস।

স্বপন মিয়ার জীবনসংগ্রাম ছিল অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ। মাত্র দেড় বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর তার মা দিনমজুরি করে সন্তানদের বড় করেছেন। সংসারের অভাব মেটাতে দুই ভাই রিকশা চালালেও স্বপন বেছে নিয়েছিলেন বইয়ের জগতকে। একসময় রিকশা চালিয়ে বা পান-সিগারেট বিক্রি করে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি তিল তিল করে এই পাঠাগারটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি একটি কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত থাকলেও তার আয়ের বড় একটি অংশ ব্যয় করেন এই পাঠাগারের রক্ষণাবেক্ষণে।

২২ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়ে যাওয়া এই পাঠাগারটি এখন এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসাস্থল। প্রতি শুক্রবার এখানে পাঠচক্র ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্বপন মিয়ার লক্ষ্য, অর্থের অভাবে যেন কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়। নিজের ভিটেমাটির ওপর গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানটিই এখন তার জীবনের সবটুকু জুড়ে রয়েছে।