ঢাকা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, স্বজনদের ভোগান্তি চরমে

গত কয়েকদিনের অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতে রাজধানী ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের করুন দশা। প্রায় ৬৫ একর আয়তনের এই কবরস্থানের পূর্ব অংশসহ বিভিন্ন লাইনের অধিকাংশ এলাকাই এখন পানির নিচে। টানা বর্ষণের ফলে কবরস্থানটি এক জলমগ্ন ডোবায় পরিণত হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, কবরগুলোর সারি পানির নিচে ডুবে আছে, লোহার বেড়া ও সীমানা প্রাচীর ঢাকা পড়েছে এবং অনেক নামফলক আর দৃশ্যমান নয়। প্রিয়জনের শেষ ঠিকানায় শ্রদ্ধা জানাতে আসা স্বজনরা কবরের কাছে পৌঁছানোর ন্যূনতম পথটুকুও খুঁজে পাচ্ছেন না। নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা সত্ত্বেও প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এমন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

কবরস্থান রক্ষণাবেক্ষণকারী কর্মীদের মতে, এটি একটি দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যা। প্রায় ১৫-২০ বছর আগে মাটি ভরাট করে কবরস্থানটি প্রস্তুত করা হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে মাটির উচ্চতা কমে যাওয়ায় ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা একটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। যদিও কিছু জায়গা এখনো তুলনামূলক ভালো আছে, তবে পূর্ব পাশসহ অধিকাংশ লাইনের অবস্থাই বেহাল। ছুটির দিনেও কবরের এমন ডুবন্ত দশা দেখে অনেক স্বজনকে দূর থেকে হাত তুলে দোয়া করে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

কবরস্থান সংশ্লিষ্ট রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও তা এই মৌসুমে জমে থাকা পানি অপসারণে পুরোপুরি সক্ষম হচ্ছে না। অন্য বছরের তুলনায় এবার পানি বেশি জমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জলাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনার ফলে কবরস্থানের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর ও কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থার অভাবে মৃতদের শেষ আশ্রয়স্থল আজ অবমাননাকর পরিস্থিতির শিকার। স্থানীয়দের মতে, কেবল দায়সারা মাটি ভরাট নয়, বরং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার প্রয়োজন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনপদ: ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব শত শত পরিবার

ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, স্বজনদের ভোগান্তি চরমে

আপডেট সময় : ১২:১১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

গত কয়েকদিনের অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতে রাজধানী ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের করুন দশা। প্রায় ৬৫ একর আয়তনের এই কবরস্থানের পূর্ব অংশসহ বিভিন্ন লাইনের অধিকাংশ এলাকাই এখন পানির নিচে। টানা বর্ষণের ফলে কবরস্থানটি এক জলমগ্ন ডোবায় পরিণত হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, কবরগুলোর সারি পানির নিচে ডুবে আছে, লোহার বেড়া ও সীমানা প্রাচীর ঢাকা পড়েছে এবং অনেক নামফলক আর দৃশ্যমান নয়। প্রিয়জনের শেষ ঠিকানায় শ্রদ্ধা জানাতে আসা স্বজনরা কবরের কাছে পৌঁছানোর ন্যূনতম পথটুকুও খুঁজে পাচ্ছেন না। নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা সত্ত্বেও প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এমন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

কবরস্থান রক্ষণাবেক্ষণকারী কর্মীদের মতে, এটি একটি দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যা। প্রায় ১৫-২০ বছর আগে মাটি ভরাট করে কবরস্থানটি প্রস্তুত করা হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে মাটির উচ্চতা কমে যাওয়ায় ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা একটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। যদিও কিছু জায়গা এখনো তুলনামূলক ভালো আছে, তবে পূর্ব পাশসহ অধিকাংশ লাইনের অবস্থাই বেহাল। ছুটির দিনেও কবরের এমন ডুবন্ত দশা দেখে অনেক স্বজনকে দূর থেকে হাত তুলে দোয়া করে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

কবরস্থান সংশ্লিষ্ট রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও তা এই মৌসুমে জমে থাকা পানি অপসারণে পুরোপুরি সক্ষম হচ্ছে না। অন্য বছরের তুলনায় এবার পানি বেশি জমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জলাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনার ফলে কবরস্থানের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর ও কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থার অভাবে মৃতদের শেষ আশ্রয়স্থল আজ অবমাননাকর পরিস্থিতির শিকার। স্থানীয়দের মতে, কেবল দায়সারা মাটি ভরাট নয়, বরং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার প্রয়োজন।