ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ মঞ্চে মায়ের প্রতি হালান্ডের বিশেষ সম্মান: জার্সিতে ‘ব্রাউট’ নামের তাৎপর্য

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নরওয়েকে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন আর্লিং হালান্ড। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স যেখানে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে, সেখানেই অনেকের নজর কেড়েছে তার জার্সির পেছনে লেখা নামটি। সাধারণত ক্লাব ফুটবলে ‘হালান্ড’ নামে পরিচিত হলেও, জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা গেছে ‘ব্রাউট হালান্ড’ লেখা। গোলের পর দুই হাত ছড়িয়ে উদযাপনের সময় এই নীরব বার্তাটিই যেন বিশ্বমঞ্চে তার মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার জানান দিচ্ছিল।

‘ব্রাউট’ মূলত হালান্ডের মা গ্রি মারিতা ব্রাউটের পারিবারিক নাম। এর মাধ্যমে আর্লিং একসঙ্গে তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড এবং মা গ্রি মারিতা ব্রাউটের উত্তরাধিকার বহন করছেন। ম্যানচেস্টার সিটিতে কেবল ‘হালান্ড’ ব্যবহার করলেও, জাতীয় দলের হয়ে তিনি তার পূর্ণ নাম আর্লিং ব্রাউট হালান্ড ব্যবহার করেন, যা তার ব্যক্তিগত পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হালান্ডের বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড ছিলেন নরওয়ের একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার। আর তার মা গ্রি মারিতা ব্রাউট নিজেও একজন প্রাক্তন হেপ্টাথলিট। অর্থাৎ, ফুটবল আর অ্যাথলেটিক্স—দুটি ভিন্ন ক্রীড়ার ঐতিহ্যকে যেন একইসাথে ধারণ করছেন হালান্ড। এই পারিবারিক ক্রীড়া ঐতিহ্যই তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন ২০২৫ সাল থেকে জাতীয় দলে তার পূর্ণ নাম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। তবে এর অনেক আগে থেকেই হালান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত পরিচয়ে আর্লিং ব্রাউট হালান্ড নামটি ব্যবহার করে আসছেন। ব্রাজিল ম্যাচের পর অনেক সমর্থকই এটিকে কোনো বিশেষ উপলক্ষের সিদ্ধান্ত ভেবেছিলেন, কিন্তু এটি ছিল তার দীর্ঘদিনের পরিচয় এবং মায়ের প্রতি সম্মান জানানোর এক স্থায়ী উপায়।

হালান্ডের ক্যারিয়ার অসংখ্য গোল আর রেকর্ডের গল্পে ভরপুর। তবে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলকে বিদায় জানানোর রাতে তার জার্সির পেছনের ‘ব্রাউট’ শব্দটি এক ভিন্ন বার্তা নিয়ে এসেছে। এটি মনে করিয়ে দেয় যে, একজন ফুটবলারের পরিচয় শুধু তার গোলের সংখ্যায় নয়, বরং তার শিকড় এবং পারিবারিক ঐতিহ্যেও নিহিত। বিশ্বজুড়ে যখন সবাই তাকে কেবল ‘হালান্ড’ নামে চেনে, তখন তিনি নীরবে সাফল্যের এই পথচলায় মায়ের পরিচয়কেও সমান গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের নতুন প্যাকেজ ভিসা: বাংলাদেশসহ ৭ দেশের পর্যটকদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ

বিশ্বকাপ মঞ্চে মায়ের প্রতি হালান্ডের বিশেষ সম্মান: জার্সিতে ‘ব্রাউট’ নামের তাৎপর্য

আপডেট সময় : ১০:২০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নরওয়েকে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন আর্লিং হালান্ড। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স যেখানে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে, সেখানেই অনেকের নজর কেড়েছে তার জার্সির পেছনে লেখা নামটি। সাধারণত ক্লাব ফুটবলে ‘হালান্ড’ নামে পরিচিত হলেও, জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা গেছে ‘ব্রাউট হালান্ড’ লেখা। গোলের পর দুই হাত ছড়িয়ে উদযাপনের সময় এই নীরব বার্তাটিই যেন বিশ্বমঞ্চে তার মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার জানান দিচ্ছিল।

‘ব্রাউট’ মূলত হালান্ডের মা গ্রি মারিতা ব্রাউটের পারিবারিক নাম। এর মাধ্যমে আর্লিং একসঙ্গে তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড এবং মা গ্রি মারিতা ব্রাউটের উত্তরাধিকার বহন করছেন। ম্যানচেস্টার সিটিতে কেবল ‘হালান্ড’ ব্যবহার করলেও, জাতীয় দলের হয়ে তিনি তার পূর্ণ নাম আর্লিং ব্রাউট হালান্ড ব্যবহার করেন, যা তার ব্যক্তিগত পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হালান্ডের বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড ছিলেন নরওয়ের একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার। আর তার মা গ্রি মারিতা ব্রাউট নিজেও একজন প্রাক্তন হেপ্টাথলিট। অর্থাৎ, ফুটবল আর অ্যাথলেটিক্স—দুটি ভিন্ন ক্রীড়ার ঐতিহ্যকে যেন একইসাথে ধারণ করছেন হালান্ড। এই পারিবারিক ক্রীড়া ঐতিহ্যই তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন ২০২৫ সাল থেকে জাতীয় দলে তার পূর্ণ নাম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। তবে এর অনেক আগে থেকেই হালান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত পরিচয়ে আর্লিং ব্রাউট হালান্ড নামটি ব্যবহার করে আসছেন। ব্রাজিল ম্যাচের পর অনেক সমর্থকই এটিকে কোনো বিশেষ উপলক্ষের সিদ্ধান্ত ভেবেছিলেন, কিন্তু এটি ছিল তার দীর্ঘদিনের পরিচয় এবং মায়ের প্রতি সম্মান জানানোর এক স্থায়ী উপায়।

হালান্ডের ক্যারিয়ার অসংখ্য গোল আর রেকর্ডের গল্পে ভরপুর। তবে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলকে বিদায় জানানোর রাতে তার জার্সির পেছনের ‘ব্রাউট’ শব্দটি এক ভিন্ন বার্তা নিয়ে এসেছে। এটি মনে করিয়ে দেয় যে, একজন ফুটবলারের পরিচয় শুধু তার গোলের সংখ্যায় নয়, বরং তার শিকড় এবং পারিবারিক ঐতিহ্যেও নিহিত। বিশ্বজুড়ে যখন সবাই তাকে কেবল ‘হালান্ড’ নামে চেনে, তখন তিনি নীরবে সাফল্যের এই পথচলায় মায়ের পরিচয়কেও সমান গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।