আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের পর ফুটবল বিশ্বে এখনো থামেনি বিতর্ক। বিশেষ করে মিসরের বাতিল হওয়া গোল এবং আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহর ওপর সম্ভাব্য ফাউল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা চলছে। অনেক ফুটবলপ্রেমী মনে করছেন, রেফারি ও ভিএআর আর্জেন্টিনাকে অন্যায্য সুবিধা দিয়েছে। তবে ফুটবলে আবেগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) নির্ধারিত আইন ও প্রোটোকল।
মিসরের বাতিল হওয়া গোল নিয়ে আইএফএবির ভিএআর প্রোটোকলের ২নং নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ। এই নিয়ম অনুযায়ী, রেফারিকে অবশ্যই একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং পরে ভিএআর ব্যবহার করে সেই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা যাবে, তবে রেফারি ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেই’ বলে ভিএআর ব্যবহার করতে পারবেন না। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের ওপর ফাউলের ক্ষেত্রে রেফারির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ছিল খেলা চালিয়ে যাওয়ার, যা একটি সিদ্ধান্ত হিসেবেই বিবেচিত। তাই এই ঘটনাটি ভিএআর পর্যালোচনার যোগ্য ছিল।
অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছিল যে, ফাউলের পর প্রায় ৩০ সেকেন্ড খেলা চলার পরেও কীভাবে ভিএআর আগের ঘটনায় ফিরে গেল। এই ক্ষেত্রে ভিএআর প্রোটোকলের ৬নং নিয়মটি পরিষ্কার দিকনির্দেশনা দেয়: ‘পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার জন্য কোনো সময়সীমা নেই, কারণ গতির চেয়ে নির্ভুলতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ অর্থাৎ, ফাউলের পর খেলা কিছুক্ষণ চললেও যদি সেটি একই আক্রমণাত্মক ধারাবাহিকতার অংশ হয় এবং পরে গোল হয়, তবে ভিএআর সেই ঘটনাটি পর্যালোচনা করতে পারে। ফলে মোস্তফা জিকোর গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত আইএফএবির প্রোটোকলের সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ ছিল।
আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে সালাহর ওপর সম্ভাব্য ফাউল প্রসঙ্গে মিসরের দাবি থাকলেও ভিএআর কেন হস্তক্ষেপ করেনি, তার উত্তরও প্রোটোকলেই রয়েছে। ভিএআর প্রোটোকলের ৩নং নিয়মে বলা হয়েছে, ‘রেফারির দেওয়া মূল সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না, যদি না ভিডিও রিভিউতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে, সিদ্ধান্তটি একটি সুস্পষ্ট ও অনিবার্য ভুল ছিল।’ এই ক্ষেত্রে ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি, কারণ রেফারির সিদ্ধান্তটি ‘সুস্পষ্ট ও অনিবার্য ভুল’ ছিল না বলে বিবেচিত হয়েছে। তাই ভিএআরের সকল সিদ্ধান্ত ফুটবলের সুনির্দিষ্ট আইনের ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া হয়েছে, কোনো আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়।
রিপোর্টারের নাম 

























