ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক অভিযান জোরদার, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা তুঙ্গে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৮:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের হামলার তুলনায় সর্বশেষ অভিযান আরও বড় পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে, যা বিদ্যমান পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রশাসনের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইরান লঙ্ঘন করেছে। জেডি ভ্যান্সের মতে, চুক্তির শর্ত ছিল—যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ইরান জাহাজে হামলা বন্ধ করবে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান প্রায় এক সপ্তাহ ওই সমঝোতা মেনে চললেও, পরে আবার হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।

মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে চুক্তির শর্ত মেনে চলতে হবে, অন্যথায় হামলা অব্যাহত থাকবে। রয়টার্সকে দেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যে বলা হয়েছে, চলমান সামরিক অভিযান মঙ্গলবারের হামলার তুলনায় আরও ব্যাপক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি, তবে তা বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত এবং কার্যত স্থগিত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিলেও তিনি নিজে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন। এ দায়িত্ব তিনি তার দূতদের এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বন্ধের যেকোনো চেষ্টা সামরিক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সর্বশেষ হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর উপকূলীয় রাডার, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল সচল রাখা যায়।

তবে এসব দাবি সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনার চাটমোহরে ভ্যানচালককে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক অভিযান জোরদার, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা তুঙ্গে

আপডেট সময় : ০৭:০৮:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের হামলার তুলনায় সর্বশেষ অভিযান আরও বড় পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে, যা বিদ্যমান পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রশাসনের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইরান লঙ্ঘন করেছে। জেডি ভ্যান্সের মতে, চুক্তির শর্ত ছিল—যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ইরান জাহাজে হামলা বন্ধ করবে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান প্রায় এক সপ্তাহ ওই সমঝোতা মেনে চললেও, পরে আবার হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।

মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে চুক্তির শর্ত মেনে চলতে হবে, অন্যথায় হামলা অব্যাহত থাকবে। রয়টার্সকে দেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যে বলা হয়েছে, চলমান সামরিক অভিযান মঙ্গলবারের হামলার তুলনায় আরও ব্যাপক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি, তবে তা বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত এবং কার্যত স্থগিত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিলেও তিনি নিজে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন। এ দায়িত্ব তিনি তার দূতদের এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বন্ধের যেকোনো চেষ্টা সামরিক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সর্বশেষ হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর উপকূলীয় রাডার, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল সচল রাখা যায়।

তবে এসব দাবি সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।