ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি এনকাউন্টারে নিহত: ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ অনুসরণের অভিযোগ বিরোধীদের

পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এই মৃত্যুকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে কড়া সমালোচনা করছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য রাতে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সে সময় তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

এই এনকাউন্টারকে ভারতের উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিচার পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করে ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ আখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রসহ অন্যান্য বিরোধী নেতারা। মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি সরকারের শাসন নয়, বরং জঙ্গলরাজের বহিঃপ্রকাশ। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও পুলিশের এই ভাষ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন সাধারণ ভ্যানচালক কীভাবে সশস্ত্র পুলিশের কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাতে পারে।

অন্যদিকে, সিপিএম নেতা ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য এই ঘটনাকে একটি সুপরিকল্পিত নাটক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, মূল সাক্ষীকে সরিয়ে দিতেই এই এনকাউন্টার করা হয়েছে। বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, আদালতের মাধ্যমে তার বিচার হওয়াই কাম্য। অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্য খেলাফত মজলিসের শুরা অধিবেশন: ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার আহ্বান

পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি এনকাউন্টারে নিহত: ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ অনুসরণের অভিযোগ বিরোধীদের

আপডেট সময় : ১১:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এই মৃত্যুকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে কড়া সমালোচনা করছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য রাতে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সে সময় তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

এই এনকাউন্টারকে ভারতের উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিচার পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করে ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ আখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রসহ অন্যান্য বিরোধী নেতারা। মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি সরকারের শাসন নয়, বরং জঙ্গলরাজের বহিঃপ্রকাশ। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও পুলিশের এই ভাষ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন সাধারণ ভ্যানচালক কীভাবে সশস্ত্র পুলিশের কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাতে পারে।

অন্যদিকে, সিপিএম নেতা ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য এই ঘটনাকে একটি সুপরিকল্পিত নাটক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, মূল সাক্ষীকে সরিয়ে দিতেই এই এনকাউন্টার করা হয়েছে। বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, আদালতের মাধ্যমে তার বিচার হওয়াই কাম্য। অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে।