ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

বান্দরবানে মানবিক বিপর্যয়: দুর্যোগকবলিতদের পাশে সেনাবাহিনী

টানা কয়েক দিনের অবিরাম ভারী বর্ষণ, ভয়াবহ পাহাড়ধস ও ব্যাপক জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। এই মানবিক বিপর্যয়ে দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পাহাড়ধস ও পানিবন্দি পরিস্থিতির শুরু থেকেই জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান, সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ২২০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল পৌর এলাকার ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রেই বুধবার রাত পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৬৭০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে বান্দরবান পৌরসভার আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, ওয়াপদা ব্রিজ, শেরেবাংলানগর, হাফেজঘোনা, কালাঘাটা, কাশেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ছাইগ্যাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পাহাড়ধসের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে এবং অনেকেই বাধ্য হন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে।

বান্দরবানের ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম দুর্যোগের শুরু থেকেই পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। তিনি নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিচ্ছেন। মঙ্গলবার তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গেও দুর্যোগ পরিস্থিতি, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় করেন। স্থানীয় বাস্তবতা ও বিভিন্ন এলাকার সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর দলগুলোকে প্রয়োজনীয় স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে।

বর্তমানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ, মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, দুর্গতদের সহযোগিতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর এই সক্রিয় উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আস্থা তৈরি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘দুঃসাহসিকতার’ দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

বান্দরবানে মানবিক বিপর্যয়: দুর্যোগকবলিতদের পাশে সেনাবাহিনী

আপডেট সময় : ১০:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক দিনের অবিরাম ভারী বর্ষণ, ভয়াবহ পাহাড়ধস ও ব্যাপক জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। এই মানবিক বিপর্যয়ে দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পাহাড়ধস ও পানিবন্দি পরিস্থিতির শুরু থেকেই জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান, সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ২২০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল পৌর এলাকার ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রেই বুধবার রাত পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৬৭০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে বান্দরবান পৌরসভার আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, ওয়াপদা ব্রিজ, শেরেবাংলানগর, হাফেজঘোনা, কালাঘাটা, কাশেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ছাইগ্যাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পাহাড়ধসের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে এবং অনেকেই বাধ্য হন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে।

বান্দরবানের ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম দুর্যোগের শুরু থেকেই পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। তিনি নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিচ্ছেন। মঙ্গলবার তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গেও দুর্যোগ পরিস্থিতি, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় করেন। স্থানীয় বাস্তবতা ও বিভিন্ন এলাকার সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর দলগুলোকে প্রয়োজনীয় স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে।

বর্তমানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ, মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, দুর্গতদের সহযোগিতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর এই সক্রিয় উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আস্থা তৈরি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।