ডালাসের রাতে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের উল্লাসের বিপরীতে এক নীরব বিদায়ের দৃশ্যপট তৈরি হলো। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ফুটবলের এক মহাতারকা, গ্যালারির দিকে এক পলক তাকালেন। তার চোখে অশ্রু আর মুখে এক ম্লান হাসি। ক্ষোভ বা অভিযোগ নয়, ছিল কেবল দুই দশক ধরে লালন করা এক অসমাপ্ত স্বপ্নের নীরব বিদায়। বিশ্বকাপ আবারও তাকে শূন্য হাতেই ফিরিয়ে দিল, এবারও, এবং সম্ভবত শেষবারের মতো।
ফুটবলের ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই রোনালদোর মতো এত পূর্ণতা ছুঁতে পেরেছেন। পাঁচটি ব্যালন ডি’অর, পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, দুটি উয়েফা নেশনস লিগ, ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির লিগ শিরোপা, ক্লাব বিশ্বকাপ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৪০টিরও বেশি গোল নিয়ে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার রেকর্ড বইয়ের পাতা ভরিয়ে রেখেছে। অথচ এই বিশাল সাফল্যের সাম্রাজ্যের মাঝে একটি ঘর আজও ফাঁকা—সেখানে লেখা থাকার কথা ছিল ‘ফিফা বিশ্বকাপ’
২০০৬ সালে জার্মানিতে তরুণ রোনালদোর প্রথম বিশ্বকাপ যাত্রা সেমিফাইনালে থামে ফ্রান্সের কাছে হেরে। অনেকেই তখন ভেবেছিলেন, ভবিষ্যতে আরও অনেক সুযোগ আসবে। কিন্তু ফুটবল কখনো ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেয় না। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় পর্তুগালের যাত্রা শেষ হয় শেষ ষোলোতে। ২০১৪ সালে ব্রাজিলে আরও হতাশা নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় দল। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় স্পেনের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত। তবে সেবারও শেষ ষোলোর বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালে কাতারে সবচেয়ে কাছে গিয়েও কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হেরে অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। আর ২০২৬ সালে, ৪১ বছর বয়সে, স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ যাত্রারও পরিসমাপ্তি ঘটলো।
ছয়টি বিশ্বকাপে একটিও সোনালি ট্রফি না জিতলেও, সংখ্যার বিচারে তিনি অনন্য। বিশ্বকাপে ২৭টি ম্যাচ খেলে করেছেন ১১টি গোল। ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপেই গোল করার নজির গড়েছেন তিনি। কিন্তু রেকর্ডের এই পাহাড়ও তাকে এনে দিতে পারেনি কাঙ্ক্ষিত সেই ট্রফি। ফিফার সবচেয়ে বড় মঞ্চে তার সেরা দলীয় সাফল্য হয়ে রইল ২০০৬ সালের সেমিফাইনাল। ব্যক্তিগত উজ্জ্বলতার মাঝে দলগত হতাশার এই গল্প এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের জন্ম দিয়েছে, যা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বর্ণিল ক্যারিয়ারের এক অপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 






















