বিশ্বকাপে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে দুই হাজার ছাব্বিশ আসরে খেলতে নেমেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটি শিরোপার অন্যতম দাবিদার থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের মিশন হেক্সা অধরাই থেকে গেল। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে দুই এক গোলের ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে শক্তিশালী এই দলটিকে। এই হারের মাধ্যমে ব্রাজিল টানা ছয়টি বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দলের কাছে হেরে নকআউট পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার এক হতাশাজনক রেকর্ড গড়ল যা ফুটবল ইতিহাসে প্রথম।
রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল ব্রাজিল। প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগও পেয়েছিল তারা। পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগ পান দলের তারকা খেলোয়াড় ব্রুনো গুইমারেস। কিন্তু তার নেওয়া শট নরওয়ের গোলরক্ষক দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দিলে গোলবঞ্চিত হয় ব্রাজিল এবং প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়। এই পেনাল্টি সেভই মূলত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায় এবং নরওয়ের হয়ে জ্বলে ওঠেন আর্লিং হালান্ড। তার দুর্দান্ত দুটি গোলে নরওয়ে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায় যার কোনো কার্যকর জবাব দিতে পারেনি ব্রাজিল। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করে কিছুটা আশা জাগালেও আনচেলত্তির দল আর সমতা ফেরাতে পারেনি। ফলে দুই এক গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। দুই হাজার দুই সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে টানা ছয়টি আসরে ফ্রান্স নেদারল্যান্ডস জার্মানি বেলজিয়াম ক্রোয়েশিয়া এবং এবার নরওয়ের মতো ইউরোপীয় দলের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার আক্ষেপ ব্রাজিলকে আবারও সঙ্গী করতে হলো। অন্যদিকে শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারিয়ে আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ইতিহাস গড়ল ইউরোপের দেশ নরওয়ে।
রিপোর্টারের নাম 






















