উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত বহুল আলোচিত রাম মন্দির এখন এক বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগের মুখে। মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্টের বিরুদ্ধে ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ অনুদান ও মূল্যবান উপহার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গত এক মাস ধরে এই কেলেঙ্কারি নিয়ে তোলপাড় চলছে, যা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে ১৯৯২ সালে যে স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল, সেই স্থানেই আড়াই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নতুন রাম মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। বহু হিন্দুর কাছে এটি ভগবান রামের জন্মভূমি হিসেবে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। তবে এখন এই মন্দিরকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ ভক্তদের বিশ্বাসে আঘাত হেনেছে। এক ভক্ত ব্রজেশ কুমার আল জাজিরাকে বলেন, ধর্মের নামে যারা মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, তারাই সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছেন।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই এটি ভারতের অন্যতম ব্যস্ত ধর্মীয় তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। মন্দিরটি ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’ নামক একটি স্বাধীন সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হলেও, এর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিজেপির আদর্শিক সংগঠন আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়।
চলতি মাসে ট্রাস্টের হিসাব বিভাগের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মহিপাল সিং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ জনসমক্ষে আনলে ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। যদিও আল জাজিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। এদিকে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির নেতা ও উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেছেন, মন্দিরের অনুদানের কোটি কোটি রুপি গায়েব হয়ে গেছে। বিরোধীদের চাপের মুখে উত্তর প্রদেশ সরকার ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























