২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই নকআউট পর্বের চিত্র অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটের এই বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও জায়গা পাচ্ছে রাউন্ড অব ৩২-এ। সেই উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে এখন পর্যন্ত ১৮টি দল নিশ্চিত করেছে শেষ বত্রিশের টিকিট। এর ফলে নিশ্চিত হয়েছে বেশ কয়েকটি জমজমাট নকআউট ম্যাচেরও পূর্বাভাস।
এ পর্যন্ত নকআউট পর্ব নিশ্চিত করা দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা, মরক্কো, জাপান, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর, সুইডেন, নরওয়ে, কলম্বিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। এই দলগুলোর কেউ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে, কেউ রানার্সআপ হয়ে, আবার কেউ সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলের তালিকায় স্থান করে নিয়ে শেষ বত্রিশে উঠেছে।
আয়োজক দেশ মেক্সিকো শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয় তুলে নিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপ ‘এ’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একই গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’ থেকে সুইজারল্যান্ড ও কানাডা জায়গা করে নিয়েছে শেষ বত্রিশে। কানাডার জন্য এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি অন্যতম বড় অর্জন, কারণ দেশটি প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠেছে।
গ্রুপ ‘সি’-তে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল কোনো সুযোগই দেয়নি প্রতিদ্বন্দ্বীদের। টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে সেলেসাওরা। রানার্সআপ হিসেবে তাদের সঙ্গে শেষ বত্রিশে উঠেছে মরক্কো। ব্রাজিলের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা নেইমার। গ্রুপ ‘ডি’ থেকে যুক্তরাষ্ট্র আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত করেছিল। শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেও অস্ট্রেলিয়া রানার্সআপ হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছে। একই ম্যাচে এক পয়েন্ট পাওয়া প্যারাগুয়েও সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর তালিকায় থেকে এখনও শেষ বত্রিশে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে।
সবচেয়ে নাটকীয় সমাপ্তি দেখা গেছে গ্রুপ ‘ই’-তে। শেষ ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ইকুয়েডর। সেই জয়ের সুবাদে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। জার্মানি অবশ্য আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
রিপোর্টারের নাম 























