ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

টেন্ডার-বিল নিয়ে সরকারি অফিসে ভয়ভীতি, উদ্বেগে প্রশাসন

নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে টেবিলে অস্ত্র রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সরকারি কর্মকর্তার গাড়ি থামিয়ে কাচ ভাঙচুর ও গুলির হুমকি, কিংবা দলবদ্ধভাবে কার্যালয় ঘেরাও করে হট্টগোল—গত কয়েক মাসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মূলত বিল পরিশোধ, টেন্ডার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে চাপ ও ভয়ভীতি অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, কোথাও হামলা বা সংঘবদ্ধ চাপ সৃষ্টির অভিযোগ পেলেই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক বছরে চট্টগ্রামের অন্তত ১০টি সরকারি দপ্তরে হামলা, ভাঙচুর বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার মধ্যে মাত্র পাঁচটির বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এলজিইডি কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

গত ২১ জুন চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে।

কর্মকর্তাদের দাবি, বিল পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে ৩০ থেকে ৩৫ জন ঠিকাদার ও তাদের সমর্থক কার্যালয়ে প্রবেশ করে হট্টগোল ও ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এলজিইডির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঘটনার দিন হামলার আশঙ্কায় নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মতিন কার্যালয়ে যাননি। এরপর থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে অস্ত্র দেখিয়ে চাপ

১৮ জুন চট্টগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলামের কার্যালয়েও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ১০ থেকে ১২ জনের একটি মুখোশধারী দল কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে চারজন নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে অন্যদের বের করে দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, তারা বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলিয়ে তার অনুসারীদের কাজ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ সময় টেবিলের ওপর দুটি বিদেশি পিস্তল রেখে ভয় দেখানো হয়।

একজন সহকারী প্রকৌশলী মোবাইল ফোন বের করার চেষ্টা করলে তাকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।

তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর ইসলাম।

কাস্টমস কর্মকর্তার গাড়িতে হামলা

সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার আরেকটি ঘটনা ঘটে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের দুই কর্মকর্তার ওপর।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর সকালে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় অফিসে যাওয়ার পথে রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বদরুল আরেফিন ভূঁইয়ার গাড়ির গতিরোধ করে মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের একজন চাপাতি দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন এবং গুলি করার হুমকি দেন। পরে দুই কর্মকর্তা গাড়ি থেকে নেমে পাশের একটি গলিতে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পান।

কাস্টমস সূত্রের দাবি, আমদানি-নিষিদ্ধ পপি বীজ ও ঘন চিনির চালান জব্দ এবং প্রসাধনী আমদানির আড়ালে পরিচালিত একটি জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জেরেই এ হামলা হয়েছিল।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

বিএডিসি অফিসেও ভয়ভীতি

চট্টগ্রামের কালুরঘাটে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কার্যালয়েও একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ রয়েছে।

গত ৪ জানুয়ারি অস্ত্র দেখিয়ে কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ঠিকাদার আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী।

এর দুই দিন আগে তার নেতৃত্বে নয়জনের একটি দল অস্ত্রসহ কার্যালয়ে প্রবেশ করে নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে খুঁজতে গিয়ে না পেয়ে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হেনস্তা ও হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

একইভাবে ষোলশহরের বিএডিসি অফিসে কর্মচারী রিয়াজ মাহমুদকে মারধর এবং কম্পিউটার অপারেটর ফাহিমকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে।

বিদ্যুৎ ভবন ও চসিকেও উত্তেজনা

গত ১০ জুন আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ ভবনে সিবিএর বর্তমান ও সাবেক নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াসমিনের কার্যালয়ে প্রবেশ করে হট্টগোল, বাকবিতণ্ডা ও মারধর করে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ তৌহিদুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে কর্মচারী ইউনিয়নের ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

‘বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পেলে প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হবে’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আইনজীবী আখতার কবির চৌধুরীর মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সিদ্ধান্ত আদায়ের প্রবণতা প্রশাসনের জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, এ ধরনের চাপ অব্যাহত থাকলে সরকারি কাজের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রশাসনের পরিবর্তে বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পাবে।

‘এভাবে দায়িত্ব পালন কঠিন’

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজ করতে গিয়ে যদি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি ও হেনস্তার মুখে পড়তে হয়, তাহলে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে যায়।

তার ভাষায়, সরকার নিজেই বলছে কাজ শেষ না হলে বিল পরিশোধ করা যাবে না। আমরা সেই নির্দেশনাই অনুসরণ করছি। কিন্তু এর জন্য যদি ভয়ভীতির মুখে পড়তে হয়, তাহলে সরকারি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।

পুলিশের বক্তব্য

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অবরোধ বা চাপ সৃষ্টির কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি বলেন, “থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার, দুর্ঘটনার ধারণা বিজিবির

টেন্ডার-বিল নিয়ে সরকারি অফিসে ভয়ভীতি, উদ্বেগে প্রশাসন

আপডেট সময় : ০১:৫৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে টেবিলে অস্ত্র রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সরকারি কর্মকর্তার গাড়ি থামিয়ে কাচ ভাঙচুর ও গুলির হুমকি, কিংবা দলবদ্ধভাবে কার্যালয় ঘেরাও করে হট্টগোল—গত কয়েক মাসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মূলত বিল পরিশোধ, টেন্ডার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে চাপ ও ভয়ভীতি অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, কোথাও হামলা বা সংঘবদ্ধ চাপ সৃষ্টির অভিযোগ পেলেই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক বছরে চট্টগ্রামের অন্তত ১০টি সরকারি দপ্তরে হামলা, ভাঙচুর বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার মধ্যে মাত্র পাঁচটির বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এলজিইডি কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

গত ২১ জুন চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে।

কর্মকর্তাদের দাবি, বিল পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে ৩০ থেকে ৩৫ জন ঠিকাদার ও তাদের সমর্থক কার্যালয়ে প্রবেশ করে হট্টগোল ও ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এলজিইডির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঘটনার দিন হামলার আশঙ্কায় নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মতিন কার্যালয়ে যাননি। এরপর থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে অস্ত্র দেখিয়ে চাপ

১৮ জুন চট্টগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলামের কার্যালয়েও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ১০ থেকে ১২ জনের একটি মুখোশধারী দল কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে চারজন নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে অন্যদের বের করে দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, তারা বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলিয়ে তার অনুসারীদের কাজ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ সময় টেবিলের ওপর দুটি বিদেশি পিস্তল রেখে ভয় দেখানো হয়।

একজন সহকারী প্রকৌশলী মোবাইল ফোন বের করার চেষ্টা করলে তাকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।

তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর ইসলাম।

কাস্টমস কর্মকর্তার গাড়িতে হামলা

সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার আরেকটি ঘটনা ঘটে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের দুই কর্মকর্তার ওপর।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর সকালে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় অফিসে যাওয়ার পথে রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বদরুল আরেফিন ভূঁইয়ার গাড়ির গতিরোধ করে মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের একজন চাপাতি দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন এবং গুলি করার হুমকি দেন। পরে দুই কর্মকর্তা গাড়ি থেকে নেমে পাশের একটি গলিতে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পান।

কাস্টমস সূত্রের দাবি, আমদানি-নিষিদ্ধ পপি বীজ ও ঘন চিনির চালান জব্দ এবং প্রসাধনী আমদানির আড়ালে পরিচালিত একটি জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জেরেই এ হামলা হয়েছিল।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

বিএডিসি অফিসেও ভয়ভীতি

চট্টগ্রামের কালুরঘাটে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কার্যালয়েও একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ রয়েছে।

গত ৪ জানুয়ারি অস্ত্র দেখিয়ে কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ঠিকাদার আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী।

এর দুই দিন আগে তার নেতৃত্বে নয়জনের একটি দল অস্ত্রসহ কার্যালয়ে প্রবেশ করে নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে খুঁজতে গিয়ে না পেয়ে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হেনস্তা ও হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

একইভাবে ষোলশহরের বিএডিসি অফিসে কর্মচারী রিয়াজ মাহমুদকে মারধর এবং কম্পিউটার অপারেটর ফাহিমকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে।

বিদ্যুৎ ভবন ও চসিকেও উত্তেজনা

গত ১০ জুন আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ ভবনে সিবিএর বর্তমান ও সাবেক নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াসমিনের কার্যালয়ে প্রবেশ করে হট্টগোল, বাকবিতণ্ডা ও মারধর করে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ তৌহিদুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে কর্মচারী ইউনিয়নের ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

‘বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পেলে প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হবে’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আইনজীবী আখতার কবির চৌধুরীর মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সিদ্ধান্ত আদায়ের প্রবণতা প্রশাসনের জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, এ ধরনের চাপ অব্যাহত থাকলে সরকারি কাজের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রশাসনের পরিবর্তে বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পাবে।

‘এভাবে দায়িত্ব পালন কঠিন’

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজ করতে গিয়ে যদি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি ও হেনস্তার মুখে পড়তে হয়, তাহলে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে যায়।

তার ভাষায়, সরকার নিজেই বলছে কাজ শেষ না হলে বিল পরিশোধ করা যাবে না। আমরা সেই নির্দেশনাই অনুসরণ করছি। কিন্তু এর জন্য যদি ভয়ভীতির মুখে পড়তে হয়, তাহলে সরকারি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।

পুলিশের বক্তব্য

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অবরোধ বা চাপ সৃষ্টির কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি বলেন, “থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”