ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ছন্দময় ফুটবলের অভাব: কোথায় সেই চেনা রূপ?

বিশ্ব ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ব্রাজিল। তাদের খেলা মানেই যেন এক অন্যরকম আনন্দ, এক ছন্দময় নৃত্য। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ আসরে সেই চিরচেনা সাম্বার ছন্দ, সেই বোল্ড ও বিউটিফুল ফুটবলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দলটিকে দেখে মনে হচ্ছে, তারা যেন সুরহীন এক গান গাইছে, বা তাল ছাড়া নাচছে।

হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় স্কোরবোর্ডে স্বস্তি দিলেও, মাঠের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়। রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত এবং ফিফা র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা একটি দলের বিরুদ্ধে এমন জয় প্রত্যাশিতই ছিল। তবে এই জয় কি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য একটি দলের পারফরম্যান্সের প্রতিফলন? স্পষ্টতই, উত্তরটি ‘না’। দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপে থাকলেও, নিজেদের আসল পরিচয় খুঁজে ফিরছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধে তিন গোল করার পর দ্বিতীয়ার্থে ব্রাজিলের খেলায় যেন গতি হারিয়ে ফেলে। আক্রমণে ধার নেই, বলের গতি কমে গেছে, এবং প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার মানসিকতার অভাব স্পষ্ট। এমনকি সীমিত সামর্থ্যের হাইতিও দ্বিতীয়ার্থে কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি করতে সক্ষম হয়। আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই ভুলগুলো বড় মূল্য দিতে পারত।

ব্রাজিলের বর্তমান দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভিনিসিয়াস জুনিয়রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। দুই ম্যাচেই দলের একমাত্র ধারালো অস্ত্র ছিলেন তিনি। তার গতি, ড্রিবলিং এবং একক নৈপুণ্য থেকেই এসেছে বেশিরভাগ বিপজ্জনক মুহূর্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি কোনো ম্যাচে ভিনিসিয়াস নিজের সেরা খেলাটা খেলতে না পারেন, অথবা প্রতিপক্ষ তাকে ডাবল মার্কিংয়ে আটকে ফেলে, তাহলে ব্রাজিলের আক্রমণ কে নেতৃত্ব দেবে? রাফিনিয়া এখনো তার বার্সেলোনার সেই বিধ্বংসী রূপে নেই। সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি, শেষ পাসে ভুল, সহজ গোল মিস এবং চোটের কারণে মাঠ ছাড়ার আগে পর্যন্ত তার পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিল না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৯ বছরেও ফেরেনি একজনও: অনিশ্চয়তায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গার ভবিষ্যৎ

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ছন্দময় ফুটবলের অভাব: কোথায় সেই চেনা রূপ?

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ব্রাজিল। তাদের খেলা মানেই যেন এক অন্যরকম আনন্দ, এক ছন্দময় নৃত্য। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ আসরে সেই চিরচেনা সাম্বার ছন্দ, সেই বোল্ড ও বিউটিফুল ফুটবলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দলটিকে দেখে মনে হচ্ছে, তারা যেন সুরহীন এক গান গাইছে, বা তাল ছাড়া নাচছে।

হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় স্কোরবোর্ডে স্বস্তি দিলেও, মাঠের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়। রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত এবং ফিফা র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা একটি দলের বিরুদ্ধে এমন জয় প্রত্যাশিতই ছিল। তবে এই জয় কি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য একটি দলের পারফরম্যান্সের প্রতিফলন? স্পষ্টতই, উত্তরটি ‘না’। দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপে থাকলেও, নিজেদের আসল পরিচয় খুঁজে ফিরছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধে তিন গোল করার পর দ্বিতীয়ার্থে ব্রাজিলের খেলায় যেন গতি হারিয়ে ফেলে। আক্রমণে ধার নেই, বলের গতি কমে গেছে, এবং প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার মানসিকতার অভাব স্পষ্ট। এমনকি সীমিত সামর্থ্যের হাইতিও দ্বিতীয়ার্থে কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি করতে সক্ষম হয়। আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই ভুলগুলো বড় মূল্য দিতে পারত।

ব্রাজিলের বর্তমান দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভিনিসিয়াস জুনিয়রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। দুই ম্যাচেই দলের একমাত্র ধারালো অস্ত্র ছিলেন তিনি। তার গতি, ড্রিবলিং এবং একক নৈপুণ্য থেকেই এসেছে বেশিরভাগ বিপজ্জনক মুহূর্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি কোনো ম্যাচে ভিনিসিয়াস নিজের সেরা খেলাটা খেলতে না পারেন, অথবা প্রতিপক্ষ তাকে ডাবল মার্কিংয়ে আটকে ফেলে, তাহলে ব্রাজিলের আক্রমণ কে নেতৃত্ব দেবে? রাফিনিয়া এখনো তার বার্সেলোনার সেই বিধ্বংসী রূপে নেই। সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি, শেষ পাসে ভুল, সহজ গোল মিস এবং চোটের কারণে মাঠ ছাড়ার আগে পর্যন্ত তার পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিল না।