বিশ্বকাপের ময়দানে শক্তিশালী স্পেনের জয়রথ থামিয়ে দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে নবাগত কেপ ভার্দে। তবে ম্যাচ শেষে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন দলটির ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। নির্ধারিত সময় শেষে যখন রেফারি শেষ বাঁশি বাজালেন, তখন আনন্দের বদলে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় এই অভিজ্ঞ অতন্দ্র প্রহরীকে। সতীর্থদের সান্ত্বনা আর গ্যালারির করতালির মাঝেও তার অশ্রুসিক্ত চোখগুলো বলছিল এক গভীর জীবন সংগ্রামের গল্প।
পুরো ম্যাচে স্পেনের আক্রমণভাগের একের পর এক জোরালো শট রুখে দিয়ে কেপ ভার্দেকে এক ঐতিহাসিক ড্র উপহার দেন ভোজিনিয়া। লা রোহাদের ২৭টি শটের মধ্যে সাতটিই ছিল লক্ষ্যভেদী, কিন্তু ভোজিনিয়ার বিশ্বস্ত গ্লাভসের কাছে পরাস্ত হতে হয়েছে ফেরান তোরেস ও মিকেল ওয়ারজাবালদের। ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে নিজের কান্নার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই ফুটবলার জানান, এই বিশেষ দিনে তার পাশে থাকার কথা ছিল পরিবারের প্রিয় মানুষদের। কিন্তু কয়েক বছর আগে তার দাদা-দাদি মারা গেছেন এবং অর্থের অভাব ও ভিসা জটিলতায় তার মা গ্যালারিতে উপস্থিত হতে পারেননি।
নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জনের দিনে প্রিয়জনদের পাশে না পাওয়ার এই আক্ষেপ ভোজিনিয়াকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকদের মতে, ভোজিনিয়ার এই বীরত্বগাথা কেবল ফুটবলের জয় নয়, বরং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি যেমন নায়ক হয়েছেন, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনের ত্যাগ আর সংগ্রামের গল্প দিয়ে জয় করেছেন কোটি ভক্তের হৃদয়।
রিপোর্টারের নাম 























