ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

তেলের দাম কমতে পারে, তবে প্রত্যাশার চেয়ে ধীর গতিতে: বিশ্লেষকদের মত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের অবসান ও শান্তিচুক্তি কার্যকর হলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে যে ধারণা দিয়েছিলেন, বাজার বিশ্লেষক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দাম কমলেও তা হবে পালকের মতো ধীর গতিতে, পাথরের মতো দ্রুত নয়।

ইরান যুদ্ধের সময় ট্রাম্প মার্কিন জনগণের কাছে এই বার্তা দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের ফলে সাময়িক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো তেল ও গ্যাসের দামকে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। শুক্রবার একটি শান্তিচুক্তির কাঠামো স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরও জ্বালানি বাজারে দ্রুত স্বস্তি ফিরবে না।

ট্রাম্প বারবার বলেছেন যে, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। কিন্তু বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলারের যে মূল্য ছিল, সেখানে তেলের দাম ফিরতে ২০৩১ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বেশ কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন পুঁতে রাখায় জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে গেছে। বর্তমানে মাত্র দুটি সংকীর্ণ পথ দিয়ে নৌযান চলাচল সম্ভব হচ্ছে এবং এসব মাইন অপসারণে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন তেল শোধনাগার যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এসব স্থাপনা মেরামত করে স্বাভাবিক উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য শান্তিচুক্তির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ইতোমধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি এবং ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকিও দিয়েছে, যা বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন বাজেটের প্রভাব পড়েনি নিত্যপণ্যের দামে, বাজারে সরবরাহ সন্তোষজনক

তেলের দাম কমতে পারে, তবে প্রত্যাশার চেয়ে ধীর গতিতে: বিশ্লেষকদের মত

আপডেট সময় : ০৮:০০:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের অবসান ও শান্তিচুক্তি কার্যকর হলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে যে ধারণা দিয়েছিলেন, বাজার বিশ্লেষক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দাম কমলেও তা হবে পালকের মতো ধীর গতিতে, পাথরের মতো দ্রুত নয়।

ইরান যুদ্ধের সময় ট্রাম্প মার্কিন জনগণের কাছে এই বার্তা দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের ফলে সাময়িক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো তেল ও গ্যাসের দামকে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। শুক্রবার একটি শান্তিচুক্তির কাঠামো স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরও জ্বালানি বাজারে দ্রুত স্বস্তি ফিরবে না।

ট্রাম্প বারবার বলেছেন যে, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। কিন্তু বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলারের যে মূল্য ছিল, সেখানে তেলের দাম ফিরতে ২০৩১ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বেশ কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন পুঁতে রাখায় জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে গেছে। বর্তমানে মাত্র দুটি সংকীর্ণ পথ দিয়ে নৌযান চলাচল সম্ভব হচ্ছে এবং এসব মাইন অপসারণে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন তেল শোধনাগার যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এসব স্থাপনা মেরামত করে স্বাভাবিক উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য শান্তিচুক্তির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ইতোমধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি এবং ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকিও দিয়েছে, যা বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।