ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইসরাইলের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই চুক্তি তাদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের প্রভাব জোরদার করার প্রত্যাশা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত ছিলেন নেতানিয়াহু। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন সংঘাত থেকে সরে আসার পথ খুঁজছে, যা দুই নেতার কৌশলগত লক্ষ্যের মধ্যে স্পষ্ট বিভেদ তৈরি করেছে। ইসরাইলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই চুক্তি ইসরাইলের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান পর্যন্ত কেউ এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না।

ওয়াশিংটনের দাবি, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির জন্য আলোচনা হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ও ইসরাইলের উদ্বেগ, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আলোচনার সময়সীমা বাড়তে পারে, ফলে তাদের সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে।

চলমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ। ট্রাম্প প্রশাসন লেবাননে উত্তেজনা কমাতে চাইলেও নেতানিয়াহু সেখানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প এক টেলিফোন আলাপে নেতানিয়াহুকে বৈরুত লক্ষ্য করে হামলা না চালানোর নির্দেশ দেন। হামলা স্থগিত হলেও এক সপ্তাহ পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে পুনরায় হামলা চালায় ইসরাইল। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং ট্রাম্প উভয় পক্ষের সমালোচনা করেন। রোববার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইল আবারও বৈরুতে হামলা চালায়, যদিও ট্রাম্প সীমান্তে সংঘটিত রকেট হামলাকে ‘ছোট ও গুরুত্বহীন’ বলে মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, এতে লেবানন সংশ্লিষ্ট বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা ইসরাইলের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্বা: ব্রাজিলের নাচে লুকিয়ে আছে সংগ্রামের ইতিহাস

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইসরাইলের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই চুক্তি তাদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের প্রভাব জোরদার করার প্রত্যাশা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত ছিলেন নেতানিয়াহু। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন সংঘাত থেকে সরে আসার পথ খুঁজছে, যা দুই নেতার কৌশলগত লক্ষ্যের মধ্যে স্পষ্ট বিভেদ তৈরি করেছে। ইসরাইলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই চুক্তি ইসরাইলের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান পর্যন্ত কেউ এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না।

ওয়াশিংটনের দাবি, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির জন্য আলোচনা হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ও ইসরাইলের উদ্বেগ, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আলোচনার সময়সীমা বাড়তে পারে, ফলে তাদের সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে।

চলমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ। ট্রাম্প প্রশাসন লেবাননে উত্তেজনা কমাতে চাইলেও নেতানিয়াহু সেখানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প এক টেলিফোন আলাপে নেতানিয়াহুকে বৈরুত লক্ষ্য করে হামলা না চালানোর নির্দেশ দেন। হামলা স্থগিত হলেও এক সপ্তাহ পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে পুনরায় হামলা চালায় ইসরাইল। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং ট্রাম্প উভয় পক্ষের সমালোচনা করেন। রোববার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইল আবারও বৈরুতে হামলা চালায়, যদিও ট্রাম্প সীমান্তে সংঘটিত রকেট হামলাকে ‘ছোট ও গুরুত্বহীন’ বলে মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, এতে লেবানন সংশ্লিষ্ট বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা ইসরাইলের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ।