যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও উত্তেজনা নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করলে, এরপরই শুরু হবে সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়—প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে জমে থাকা জটিল রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও পারমাণবিক ইস্যুগুলোর সমাধান।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চুক্তি কার্যকর করতে আলোচকদের মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়গুলোর জটিলতা বিবেচনায় এই সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। চুক্তি বাস্তবায়নের পথে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে হরমুজ প্রণালীতে পাতা মাইন অপসারণ, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়া, জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পর্যবেক্ষণ ও সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়গুলো।
এছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নির্ধারণ এবং ইরানের মাটিতে সংরক্ষিত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়েও সমাধান খুঁজতে হবে। এসব বিষয়ে সামরিক কৌশল, আন্তর্জাতিক আইন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক প্রযুক্তি সম্পর্কে উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, এই চুক্তির বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ইউরোপীয় দেশগুলো, চীন এবং রাশিয়ার মতো প্রভাবশালী শক্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে হতে পারে। কারণ, জটিল প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক বিষয়গুলো সমাধানে এসব দেশের বিশেষজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ হবে না। সম্ভাব্য এই চুক্তির বিরুদ্ধে ইসরাইলসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উভয় দেশের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রবল চাপ রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক বিরোধিতা মোকাবিলা করেও আলোচনাকে এগিয়ে নিতে হবে। পর্যবেক্ষকরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন, ইরান এবং বিশ্বের ছয়টি বড় শক্তির প্রায় দুই বছর ধরে নিবিড় আলোচনা করতে হয়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 























