ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

রাজধানীর ৩ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: যানজট নিরসনে নতুন উদ্যোগ

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহাখালী বাস টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপো সাময়িকভাবে পূর্বাচলে এবং গুলিস্তান এলাকার বাসগুলো সায়েদাবাদ ও কাঁচপুরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত তৃতীয় উচ্চপর্যায়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট কমাতে মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলোর জন্য অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে ডিপোর স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসগুলো নির্ধারিত সময়েই টার্মিনালে এসে যাত্রী তুলবে, যা সড়কে অপ্রয়োজনীয় যানজট কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও বিকল্প স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে একটি কার্যকর বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে এবং এরপর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এছাড়াও, পরীক্ষামূলকভাবে আগামী সপ্তাহে শাহবাগ এলাকায় আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানান, মহাখালী এলাকায় সড়কে বাসের দীর্ঘ সারি বন্ধ করতে পূর্বাচলে ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ কাজে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যৌথভাবে সহযোগিতা করবে। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলার আওতায় আনার পাশাপাশি কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে গুলিস্তান এলাকার বাস ও টার্মিনাল কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।

সভায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। সরকার প্রকল্পটি বাতিল না করে কীভাবে আরও কার্যকর গণপরিবহন করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং হকারদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হকারদের উচ্ছেদ নয়, বরং পুনর্বাসনের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মানোন্নয়ন: গণমাধ্যমের ইতিবাচক প্রভাব

রাজধানীর ৩ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: যানজট নিরসনে নতুন উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৭:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহাখালী বাস টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপো সাময়িকভাবে পূর্বাচলে এবং গুলিস্তান এলাকার বাসগুলো সায়েদাবাদ ও কাঁচপুরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত তৃতীয় উচ্চপর্যায়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট কমাতে মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলোর জন্য অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে ডিপোর স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসগুলো নির্ধারিত সময়েই টার্মিনালে এসে যাত্রী তুলবে, যা সড়কে অপ্রয়োজনীয় যানজট কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও বিকল্প স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে একটি কার্যকর বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে এবং এরপর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এছাড়াও, পরীক্ষামূলকভাবে আগামী সপ্তাহে শাহবাগ এলাকায় আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানান, মহাখালী এলাকায় সড়কে বাসের দীর্ঘ সারি বন্ধ করতে পূর্বাচলে ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ কাজে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যৌথভাবে সহযোগিতা করবে। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলার আওতায় আনার পাশাপাশি কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে গুলিস্তান এলাকার বাস ও টার্মিনাল কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।

সভায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। সরকার প্রকল্পটি বাতিল না করে কীভাবে আরও কার্যকর গণপরিবহন করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং হকারদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হকারদের উচ্ছেদ নয়, বরং পুনর্বাসনের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।