ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

হিজাব নিয়ে সংসদ সদস্যের মন্তব্যের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

জাতীয় সংসদে হিজাব, নিকাব ও পর্দাকে নিয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদের (মনিরুল হক চৌধুরী) আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভ চলাকালে নেতাকর্মীরা ‘হিজাব নারীর অধিকার, কেড়ে নেওয়ার সাধ্য কার’, ‘হিজাব-নিকাবের অপমান, সইবে না মুসলমান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে জাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘হিজাব, নিকাব ও বোরকা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও মর্যাদাবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্যের নারীর পোশাক নিয়ে করা মন্তব্যকে আমরা অনভিপ্রেত ও অসম্মানজনক মনে করি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো নারীকে তার পোশাকের কারণে হেয় বা কটাক্ষ করা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও উদ্বিগ্ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমরা দাবি জানাই, এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনসমক্ষে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক ও ব্যক্তিগত পছন্দকে সম্মান করার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে।’

জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামী লীগ ভারত থেকে ইসলামবিদ্বেষ আমদানি করেছে। সেই ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিই বিএনপিতে এসে বিএনপিকেও ইসলামবিদ্বেষী করে তুলেছে। জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হিজাব, বোরকা ও পর্দাকে অবমাননার চেষ্টা করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতারা যে রাজনৈতিক অধিকার ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, সেই আন্দোলনে হিজাব পরিহিত অসংখ্য নারীও অংশ নিয়েছেন। হিজাব পরা নারীরা রাজপথে নেমেছেন, মিছিলে অংশ নিয়েছেন এবং আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে মুসলমানদের করের টাকায় পরিচালিত সংসদে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় অনুশীলন নিয়ে কটাক্ষ করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’ ছাত্রশিবির নেতারা এ সময় মনিরুল হকের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং জনগণের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাধীন অ্যানিমেশন, কমিকস ও ভিডিও গেমসের প্রদর্শনী: ‘বেস্ট শো এভারেস্ট’ এর উদ্বোধন

হিজাব নিয়ে সংসদ সদস্যের মন্তব্যের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৩:২৯:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে হিজাব, নিকাব ও পর্দাকে নিয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদের (মনিরুল হক চৌধুরী) আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভ চলাকালে নেতাকর্মীরা ‘হিজাব নারীর অধিকার, কেড়ে নেওয়ার সাধ্য কার’, ‘হিজাব-নিকাবের অপমান, সইবে না মুসলমান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে জাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘হিজাব, নিকাব ও বোরকা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও মর্যাদাবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্যের নারীর পোশাক নিয়ে করা মন্তব্যকে আমরা অনভিপ্রেত ও অসম্মানজনক মনে করি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো নারীকে তার পোশাকের কারণে হেয় বা কটাক্ষ করা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও উদ্বিগ্ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমরা দাবি জানাই, এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনসমক্ষে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক ও ব্যক্তিগত পছন্দকে সম্মান করার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে।’

জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামী লীগ ভারত থেকে ইসলামবিদ্বেষ আমদানি করেছে। সেই ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিই বিএনপিতে এসে বিএনপিকেও ইসলামবিদ্বেষী করে তুলেছে। জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হিজাব, বোরকা ও পর্দাকে অবমাননার চেষ্টা করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতারা যে রাজনৈতিক অধিকার ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, সেই আন্দোলনে হিজাব পরিহিত অসংখ্য নারীও অংশ নিয়েছেন। হিজাব পরা নারীরা রাজপথে নেমেছেন, মিছিলে অংশ নিয়েছেন এবং আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে মুসলমানদের করের টাকায় পরিচালিত সংসদে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় অনুশীলন নিয়ে কটাক্ষ করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’ ছাত্রশিবির নেতারা এ সময় মনিরুল হকের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং জনগণের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।