ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

কোরবানির চামড়া সিন্ডিকেট: প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও এতিমখানাগুলো আবারও ক্ষতিগ্রস্ত

প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময় চামড়ার বাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে প্রান্তিক, মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং এতিমখানাগুলো ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি, যেখানে চক্রটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পানির দরে কাঁচা চামড়া কিনতে বাধ্য করেছে, ফলে অনেক ব্যবসায়ী মূলধন হারিয়ে পথে বসেছেন।

প্রান্তিক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চামড়াশিল্পে সিন্ডিকেটের থাবা একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। অসাধু ব্যবসায়ী, মধ্যস্বত্বভোগী এবং ট্যানারি মালিকদের একটি চক্র কৃত্রিমভাবে দাম কমিয়ে মাঠপর্যায়ের সংগ্রাহক, মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোর ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে।

প্রতি বছর সরকার চামড়ার দাম বেঁধে দিলেও, মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। আড়তদার সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে কোরবানির চামড়া সংগ্রহকারীরা এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক কম দামে (কখনও কখনও চামড়া প্রতি ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়) চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন।

কোরবানির দিন এবং তার পরের দিনগুলোতে আড়তদাররা রহস্যজনকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকেন। বাজারে ক্রেতার এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তারা দাম একেবারেই তলানিতে নামিয়ে আনেন। উপায়ন্তর না দেখে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন। চামড়া বিক্রির একটি বড় অংশের আয় এতিমখানাগুলোর ফান্ডে জমা হয়, ফলে সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

এ ছাড়াও, সিন্ডিকেটের কারণে দেশের বাজারে দাম অস্বাভাবিক কমে গেলে কাঁচা চামড়া পাচারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। একশ্রেণির অসাধু চক্র সুযোগ বুঝে চোরাই পথে বা অন্য উপায়ে কাঁচা চামড়া সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করে।

রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রফিক, যিনি পেশায় একজন পিকআপ চালক, প্রতি বছর কোরবানিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাঁচা চামড়া কিনে থাকেন। এবারও তিনি কোরবানিরদাতাদের কাছ থেকে সরাসরি ২০০ পিস কাঁচা চামড়া কিনেছেন। ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় কেনা ছোট-বড় এসব চামড়া তিনি আড়তে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি পিস মাত্র ২০০ টাকা দর পান। মো. রফিক জানান, এবার চামড়া কিনে তার ১৫ হাজার টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। কোরবানির দিন বিকাল ৪টার মধ্যে চামড়া কিনে আড়তে গিয়েও তিনি বেশ কয়েকটি আড়তে ঘুরেও চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত এক আড়তেই তাকে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের কঠোর অবস্থান: ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির উপর নির্ভরতা ও সীমিত সমঝোতার ইঙ্গিত

কোরবানির চামড়া সিন্ডিকেট: প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও এতিমখানাগুলো আবারও ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট সময় : ১০:৫৬:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময় চামড়ার বাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে প্রান্তিক, মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং এতিমখানাগুলো ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি, যেখানে চক্রটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পানির দরে কাঁচা চামড়া কিনতে বাধ্য করেছে, ফলে অনেক ব্যবসায়ী মূলধন হারিয়ে পথে বসেছেন।

প্রান্তিক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চামড়াশিল্পে সিন্ডিকেটের থাবা একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। অসাধু ব্যবসায়ী, মধ্যস্বত্বভোগী এবং ট্যানারি মালিকদের একটি চক্র কৃত্রিমভাবে দাম কমিয়ে মাঠপর্যায়ের সংগ্রাহক, মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোর ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে।

প্রতি বছর সরকার চামড়ার দাম বেঁধে দিলেও, মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। আড়তদার সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে কোরবানির চামড়া সংগ্রহকারীরা এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক কম দামে (কখনও কখনও চামড়া প্রতি ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়) চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন।

কোরবানির দিন এবং তার পরের দিনগুলোতে আড়তদাররা রহস্যজনকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকেন। বাজারে ক্রেতার এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তারা দাম একেবারেই তলানিতে নামিয়ে আনেন। উপায়ন্তর না দেখে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন। চামড়া বিক্রির একটি বড় অংশের আয় এতিমখানাগুলোর ফান্ডে জমা হয়, ফলে সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

এ ছাড়াও, সিন্ডিকেটের কারণে দেশের বাজারে দাম অস্বাভাবিক কমে গেলে কাঁচা চামড়া পাচারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। একশ্রেণির অসাধু চক্র সুযোগ বুঝে চোরাই পথে বা অন্য উপায়ে কাঁচা চামড়া সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করে।

রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রফিক, যিনি পেশায় একজন পিকআপ চালক, প্রতি বছর কোরবানিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাঁচা চামড়া কিনে থাকেন। এবারও তিনি কোরবানিরদাতাদের কাছ থেকে সরাসরি ২০০ পিস কাঁচা চামড়া কিনেছেন। ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় কেনা ছোট-বড় এসব চামড়া তিনি আড়তে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি পিস মাত্র ২০০ টাকা দর পান। মো. রফিক জানান, এবার চামড়া কিনে তার ১৫ হাজার টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। কোরবানির দিন বিকাল ৪টার মধ্যে চামড়া কিনে আড়তে গিয়েও তিনি বেশ কয়েকটি আড়তে ঘুরেও চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত এক আড়তেই তাকে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে।