ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভের লক্ষ্যে বাংলাদেশ: সরকার নির্ধারিত লক্ষ্য ৫১ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন কেবল একটি আর্থিক সূচক নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক আস্থা এবং বহিঃখাতের স্থিতিশীলতার এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। একসময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল দেশের অর্থনৈতিক শক্তির প্রতীক। তবে বৈশ্বিক অস্থিরতা, আমদানি ব্যয়ের আকস্মিক বৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যহীনতার কারণে সেই রিজার্ভ ক্রমশ কমতে থাকে। বর্তমানে, সেই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

এই প্রেক্ষাপটে, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫১.৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে। তবে, অর্থনীতিবিদদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না। রিজার্ভ বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিও ধরে রাখা অপরিহার্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট, যা ৪৮.০৯ বিলিয়ন ডলার ছিল। করোনা মহামারির সময় আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এবং প্রবাসী আয় রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় রিজার্ভ দ্রুত বাড়ছিল। কিন্তু মহামারির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্য ও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে অস্থিরতা দেখা দেয়, যার ফলে রিজার্ভ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এখন সরকার সেই পুরোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে ৫১ বিলিয়ন ডলারের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-পূর্ব পূর্বাভাস অনুযায়ী, রফতানি আয় বৃদ্ধি, রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক সহায়তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী অর্থবছরে রিজার্ভ ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগোতে পারে। তবে, রিজার্ভের হিসাব পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তি একটি সাধারণ বিষয়। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত গ্রস রিজার্ভের মধ্যে নগদ বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ, বৈদেশিক বন্ড, ট্রেজারি বিল এবং আইএমএফের স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন লিটারে ৫ টাকা বাড়ল

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভের লক্ষ্যে বাংলাদেশ: সরকার নির্ধারিত লক্ষ্য ৫১ বিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় : ১০:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন কেবল একটি আর্থিক সূচক নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক আস্থা এবং বহিঃখাতের স্থিতিশীলতার এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। একসময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল দেশের অর্থনৈতিক শক্তির প্রতীক। তবে বৈশ্বিক অস্থিরতা, আমদানি ব্যয়ের আকস্মিক বৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যহীনতার কারণে সেই রিজার্ভ ক্রমশ কমতে থাকে। বর্তমানে, সেই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

এই প্রেক্ষাপটে, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫১.৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে। তবে, অর্থনীতিবিদদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না। রিজার্ভ বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিও ধরে রাখা অপরিহার্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট, যা ৪৮.০৯ বিলিয়ন ডলার ছিল। করোনা মহামারির সময় আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এবং প্রবাসী আয় রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় রিজার্ভ দ্রুত বাড়ছিল। কিন্তু মহামারির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্য ও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে অস্থিরতা দেখা দেয়, যার ফলে রিজার্ভ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এখন সরকার সেই পুরোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে ৫১ বিলিয়ন ডলারের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-পূর্ব পূর্বাভাস অনুযায়ী, রফতানি আয় বৃদ্ধি, রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক সহায়তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী অর্থবছরে রিজার্ভ ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগোতে পারে। তবে, রিজার্ভের হিসাব পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তি একটি সাধারণ বিষয়। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত গ্রস রিজার্ভের মধ্যে নগদ বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ, বৈদেশিক বন্ড, ট্রেজারি বিল এবং আইএমএফের স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) অন্তর্ভুক্ত থাকে।