ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

মৃত্যুশয্যায় হাজার বছরের প্রাচীন বাওবাব: গ্রামবাসীর আধ্যাত্মিক আশ্রয় ও প্রকৃতির বিপন্নতার প্রতীক

মাদাগাস্কারের আন্দোম্বিরি বনে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য গবেষকদের স্তম্ভিত করেছে। গত অক্টোবরে ফরাসি গবেষক সিরিল কর্নু এক বিশাল বাওবাব গাছের কাছে গিয়ে দেখতে পান, এর গোড়া থেকে কালো, দুর্গন্ধযুক্ত তরল নিঃসৃত হচ্ছে, যা পচনের গন্ধের মতো। ১৫ বছর ধরে বাওবাব নিয়ে গবেষণা করা কর্নু এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেননি এবং তিনি বুঝতে পারেন যে গাছটি গুরুতর সংকটে পড়েছে।

স্থানীয়ভাবে ‘সিতাকাকান্তসা’ নামে পরিচিত এই প্রাচীন বাওবাব গাছটি, যা মাদাগাস্কারের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাচীনতম, এখন তার শেষ পর্যায়ে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে এবং ধীরে ধীরে মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। এই গাছের মৃত্যু কেবল একটি বৃক্ষের অবসান নয়, বরং এটি বনের উপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য একটি আধ্যাত্মিক আশ্রয় হারানোর প্রতীক। একই সঙ্গে, এটি দ্রুত পরিবর্তনশীল জলবায়ুর কারণে প্রকৃতির শক্তিশালী স্তম্ভগুলোর বিপন্নতার এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে।

মাদাগাস্কারের চিম্বাজাজা জু অ্যান্ড বোটানিক্যাল গার্ডেনসের বাওবাব গবেষক অনজা রাজানামারো জানিয়েছেন, এই গাছটি স্থানীয় প্রাকৃতিক দৃশ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং স্থানীয় মানুষ একে নিজেদের পূর্বপুরুষের মতো ভক্তি করত।

প্রকাণ্ড কাণ্ড এবং আকাশের দিকে প্রসারিত ডালপালাযুক্ত বাওবাব গাছগুলো লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাদাগাস্করের প্রকৃতির অংশ। এদের কাঠ নরম এবং জলীয় উপাদান সমৃদ্ধ হওয়ায় অনেক বিশেষজ্ঞ এদের ‘দানবীয় সাকুলেন্ট’ বলে থাকেন। মাদাগাস্কার, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া বাওবাবের আটটি প্রজাতি শত শত, এমনকি হাজার বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। এই গাছগুলো স্থানীয়দের কাছে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, জল সংরক্ষণের প্রাকৃতিক উৎস এবং পর্যটন ও ফল সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ‘সিতাকাকান্তসা’ বাওবাবের অন্যতম বৃহৎ একটি প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত, যা স্থানীয় মালাগাসি উপভাষায় পরিচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের ‘ইয়ানত’ গ্রহণকে চাঁদাবাজি বললেন রিজভী, জামায়াতের কড়া জবাব

মৃত্যুশয্যায় হাজার বছরের প্রাচীন বাওবাব: গ্রামবাসীর আধ্যাত্মিক আশ্রয় ও প্রকৃতির বিপন্নতার প্রতীক

আপডেট সময় : ০৯:৩২:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

মাদাগাস্কারের আন্দোম্বিরি বনে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য গবেষকদের স্তম্ভিত করেছে। গত অক্টোবরে ফরাসি গবেষক সিরিল কর্নু এক বিশাল বাওবাব গাছের কাছে গিয়ে দেখতে পান, এর গোড়া থেকে কালো, দুর্গন্ধযুক্ত তরল নিঃসৃত হচ্ছে, যা পচনের গন্ধের মতো। ১৫ বছর ধরে বাওবাব নিয়ে গবেষণা করা কর্নু এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেননি এবং তিনি বুঝতে পারেন যে গাছটি গুরুতর সংকটে পড়েছে।

স্থানীয়ভাবে ‘সিতাকাকান্তসা’ নামে পরিচিত এই প্রাচীন বাওবাব গাছটি, যা মাদাগাস্কারের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাচীনতম, এখন তার শেষ পর্যায়ে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে এবং ধীরে ধীরে মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। এই গাছের মৃত্যু কেবল একটি বৃক্ষের অবসান নয়, বরং এটি বনের উপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য একটি আধ্যাত্মিক আশ্রয় হারানোর প্রতীক। একই সঙ্গে, এটি দ্রুত পরিবর্তনশীল জলবায়ুর কারণে প্রকৃতির শক্তিশালী স্তম্ভগুলোর বিপন্নতার এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে।

মাদাগাস্কারের চিম্বাজাজা জু অ্যান্ড বোটানিক্যাল গার্ডেনসের বাওবাব গবেষক অনজা রাজানামারো জানিয়েছেন, এই গাছটি স্থানীয় প্রাকৃতিক দৃশ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং স্থানীয় মানুষ একে নিজেদের পূর্বপুরুষের মতো ভক্তি করত।

প্রকাণ্ড কাণ্ড এবং আকাশের দিকে প্রসারিত ডালপালাযুক্ত বাওবাব গাছগুলো লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাদাগাস্করের প্রকৃতির অংশ। এদের কাঠ নরম এবং জলীয় উপাদান সমৃদ্ধ হওয়ায় অনেক বিশেষজ্ঞ এদের ‘দানবীয় সাকুলেন্ট’ বলে থাকেন। মাদাগাস্কার, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া বাওবাবের আটটি প্রজাতি শত শত, এমনকি হাজার বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। এই গাছগুলো স্থানীয়দের কাছে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, জল সংরক্ষণের প্রাকৃতিক উৎস এবং পর্যটন ও ফল সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ‘সিতাকাকান্তসা’ বাওবাবের অন্যতম বৃহৎ একটি প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত, যা স্থানীয় মালাগাসি উপভাষায় পরিচিত।