ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

পাকিস্তানের কূটনৈতিক কৌশলের সাফল্য: মোদির ‘একঘরে’ করার নীতি কেন বুমেরাং?

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক জনসভায় পাকিস্তানের নেতাদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানকে একঘরে করতে ভারত সফল হয়েছে এবং আমরা এই প্রচেষ্টা আরও জোরদার করব। আমরা নিশ্চিত করব যেন বিশ্বজুড়ে আপনারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।’ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে এক সশস্ত্র হামলায় ১৮ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন।

তবে, এই ঘোষণার এক দশক পর বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে একঘরে হওয়ার পরিবর্তে চীনের অন্যতম প্রধান কৌশলগত মিত্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চীন সফর করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে ওয়াশিংটনের কাছেও পাকিস্তান এখন অন্যতম এক বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পুনরুত্থিত হয়েছে।

বিগত এক বছরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উভয়েই হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমনকি চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যে ইসলামাবাদ এখন দুই দেশের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। খোদ ট্রাম্পও একাধিকবার পাকিস্তানি নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি যেমন ট্রাম্পকে আপন করে নেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ‘চতুর কূটনীতি’র সাফল্য, ঠিক তেমনি এটি মোদি সরকারের কৌশলগত ভুলেরও একটি বড় প্রমাণ। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী পাকিস্তানকে দুর্বল এবং একঘরে করার ভারতের যে কৌশল ছিল, তা বড় আকারে বুমেরাং হয়েছে।’

২০২৫ সালের ১০ মে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করেন যে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিনি একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র’…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সামনে কঠিন সময়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সতর্কবার্তা

পাকিস্তানের কূটনৈতিক কৌশলের সাফল্য: মোদির ‘একঘরে’ করার নীতি কেন বুমেরাং?

আপডেট সময় : ০৬:১৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক জনসভায় পাকিস্তানের নেতাদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানকে একঘরে করতে ভারত সফল হয়েছে এবং আমরা এই প্রচেষ্টা আরও জোরদার করব। আমরা নিশ্চিত করব যেন বিশ্বজুড়ে আপনারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।’ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে এক সশস্ত্র হামলায় ১৮ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন।

তবে, এই ঘোষণার এক দশক পর বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে একঘরে হওয়ার পরিবর্তে চীনের অন্যতম প্রধান কৌশলগত মিত্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চীন সফর করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে ওয়াশিংটনের কাছেও পাকিস্তান এখন অন্যতম এক বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পুনরুত্থিত হয়েছে।

বিগত এক বছরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উভয়েই হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমনকি চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যে ইসলামাবাদ এখন দুই দেশের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। খোদ ট্রাম্পও একাধিকবার পাকিস্তানি নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি যেমন ট্রাম্পকে আপন করে নেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ‘চতুর কূটনীতি’র সাফল্য, ঠিক তেমনি এটি মোদি সরকারের কৌশলগত ভুলেরও একটি বড় প্রমাণ। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী পাকিস্তানকে দুর্বল এবং একঘরে করার ভারতের যে কৌশল ছিল, তা বড় আকারে বুমেরাং হয়েছে।’

২০২৫ সালের ১০ মে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করেন যে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিনি একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র’…