ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

নওগাঁর ‘জিরা ধান’ ঢাকায় ‘মিনিকেট’ নামে বিক্রি: প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা

নওগাঁ অঞ্চলে উৎপাদিত জনপ্রিয় ‘জিরা ধান’-এর চাল রাজধানী ঢাকায় ‘রশিদ মিনিকেট’ নামে বিক্রি হচ্ছে, যা ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশে ‘মিনিকেট’ নামে কোনো ধানের জাত নেই। নওগাঁয় উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ধানের মধ্যে জিরা ধান অন্যতম উৎকৃষ্টমানের এবং এই ধান থেকে উৎপাদিত চালই কৌশলে ঢাকায় মিনিকেট নামে চড়া মূল্যে বাজারজাত করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জিরার মতো চিকন আকৃতির হওয়ার কারণেই এই ধানের নামকরণ হয়েছে ‘জিরা ধান’। এই ধানের ফলনও বেশ আশানুরূপ। মান্দা উপজেলার কৃষক আবদুল জলিল জানান, এই ধানের চাল বেশ ভালো এবং ভাত খেতেও সুস্বাদু। ভালো দাম ও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কৃষকরা এই ধান চাষে বেশি ঝুঁকছেন। নওগাঁর মাটিতে এক বিঘা জমিতে (২০ কাঠা) জিরা ধানের ফলন প্রায় ২০ মণের কাছাকাছি হয়, যা অন্য অনেক জাতের ধানের চেয়ে বেশি।

নওগাঁর অন্যতম বৃহৎ ধানের হাট ‘সাবাইহাট’-এর চিত্র ভিন্ন নয়। হাটে জিরা ধানের আধিপত্য দেখা যায় এবং ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। হাটে প্রতি মণ (৪০ কেজি) জিরা ধান বিক্রি হচ্ছে ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা দরে। অপরদিকে, ব্রি-২৫, ব্রি-৫৬ এবং ব্রি-৭৫ জাতের ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায়। অর্থাৎ, অন্য ধানের চেয়ে জিরা ধানের দাম মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি।

এই জিরা ধানের চালই রাজধানীসহ বিভিন্ন বাজারে ‘মিনিকেট’ নামে বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে ভোক্তারা ভালো মানের চালের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা প্রতারিত হচ্ছেন, কারণ মিনিকেট নামে কোনো ধানের অস্তিত্বই নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শর্ত না মানলে ইরানের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরুর হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

নওগাঁর ‘জিরা ধান’ ঢাকায় ‘মিনিকেট’ নামে বিক্রি: প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা

আপডেট সময় : ০৫:১৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

নওগাঁ অঞ্চলে উৎপাদিত জনপ্রিয় ‘জিরা ধান’-এর চাল রাজধানী ঢাকায় ‘রশিদ মিনিকেট’ নামে বিক্রি হচ্ছে, যা ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশে ‘মিনিকেট’ নামে কোনো ধানের জাত নেই। নওগাঁয় উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ধানের মধ্যে জিরা ধান অন্যতম উৎকৃষ্টমানের এবং এই ধান থেকে উৎপাদিত চালই কৌশলে ঢাকায় মিনিকেট নামে চড়া মূল্যে বাজারজাত করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জিরার মতো চিকন আকৃতির হওয়ার কারণেই এই ধানের নামকরণ হয়েছে ‘জিরা ধান’। এই ধানের ফলনও বেশ আশানুরূপ। মান্দা উপজেলার কৃষক আবদুল জলিল জানান, এই ধানের চাল বেশ ভালো এবং ভাত খেতেও সুস্বাদু। ভালো দাম ও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কৃষকরা এই ধান চাষে বেশি ঝুঁকছেন। নওগাঁর মাটিতে এক বিঘা জমিতে (২০ কাঠা) জিরা ধানের ফলন প্রায় ২০ মণের কাছাকাছি হয়, যা অন্য অনেক জাতের ধানের চেয়ে বেশি।

নওগাঁর অন্যতম বৃহৎ ধানের হাট ‘সাবাইহাট’-এর চিত্র ভিন্ন নয়। হাটে জিরা ধানের আধিপত্য দেখা যায় এবং ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। হাটে প্রতি মণ (৪০ কেজি) জিরা ধান বিক্রি হচ্ছে ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা দরে। অপরদিকে, ব্রি-২৫, ব্রি-৫৬ এবং ব্রি-৭৫ জাতের ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায়। অর্থাৎ, অন্য ধানের চেয়ে জিরা ধানের দাম মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি।

এই জিরা ধানের চালই রাজধানীসহ বিভিন্ন বাজারে ‘মিনিকেট’ নামে বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে ভোক্তারা ভালো মানের চালের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা প্রতারিত হচ্ছেন, কারণ মিনিকেট নামে কোনো ধানের অস্তিত্বই নেই।