ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

নতুন বাজেটে আসছে ‘অর্থনৈতিক সাধারণ ক্ষমা’: পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর সুযোগ?

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এই বাজেটকে ঘিরে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, করদাতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, এই বাজেটে কিছু খাতে কর ছাড় ও বিনিয়োগ প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে, পাশাপাশি রাজস্ব বাড়াতে তামাক ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।

একইসঙ্গে সরকার বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ, স্বয়ংক্রিয় কর রিফান্ড ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবায় কর সুবিধা এবং অন্তঃসত্ত্বা থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরতে পারে। বাজেটের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ হতে যাচ্ছে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ বা ‘অর্থনৈতিক সাধারণ ক্ষমা’।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিদেশে থাকা অর্থ দেশে এনে উৎপাদনশীল শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি কিংবা সরকারের নির্ধারিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে বিনিয়োগ করা হলে ওই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না। তবে এই সুবিধা নিতে হলে স্বাভাবিক করহারের তুলনায় কিছুটা বেশি কর পরিশোধ করতে হতে পারে। সরকারের ধারণা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়তে পারে এবং বিদেশে থাকা অর্থের একটি অংশ বৈধ চ্যানেলে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তবে বিষয়টি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একাংশের মতে, বিনিয়োগ বাড়াতে এটি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে সৎ করদাতারা বৈষম্যের শিকার হতে পারেন এবং ভবিষ্যতে অর্থ পাচারের প্রবণতাও উৎসাহ পেতে পারে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই যদি সরকার এ উদ্যোগ নেয়, তাহলে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এ ধরনের বিশেষ সুযোগ বা প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে, প্রচলিত করহারের চেয়ে অতিরিক্ত কর আরোপ করে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

নতুন বাজেটে আসছে ‘অর্থনৈতিক সাধারণ ক্ষমা’: পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর সুযোগ?

আপডেট সময় : ০৩:০৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এই বাজেটকে ঘিরে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, করদাতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, এই বাজেটে কিছু খাতে কর ছাড় ও বিনিয়োগ প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে, পাশাপাশি রাজস্ব বাড়াতে তামাক ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।

একইসঙ্গে সরকার বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ, স্বয়ংক্রিয় কর রিফান্ড ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবায় কর সুবিধা এবং অন্তঃসত্ত্বা থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরতে পারে। বাজেটের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ হতে যাচ্ছে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ বা ‘অর্থনৈতিক সাধারণ ক্ষমা’।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিদেশে থাকা অর্থ দেশে এনে উৎপাদনশীল শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি কিংবা সরকারের নির্ধারিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে বিনিয়োগ করা হলে ওই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না। তবে এই সুবিধা নিতে হলে স্বাভাবিক করহারের তুলনায় কিছুটা বেশি কর পরিশোধ করতে হতে পারে। সরকারের ধারণা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়তে পারে এবং বিদেশে থাকা অর্থের একটি অংশ বৈধ চ্যানেলে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তবে বিষয়টি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একাংশের মতে, বিনিয়োগ বাড়াতে এটি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে সৎ করদাতারা বৈষম্যের শিকার হতে পারেন এবং ভবিষ্যতে অর্থ পাচারের প্রবণতাও উৎসাহ পেতে পারে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই যদি সরকার এ উদ্যোগ নেয়, তাহলে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এ ধরনের বিশেষ সুযোগ বা প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে, প্রচলিত করহারের চেয়ে অতিরিক্ত কর আরোপ করে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।