পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সফলতা অর্জন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ঈদের দিন থেকে শনিবার (৩০ মে) রাত ১২টা পর্যন্ত মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করা হয়েছে, যা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ৩৩ হাজার ৯৪২ টনের চেয়ে বেশি।
রোববার (৩১ মে) নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ফলে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা সম্ভব হয়েছে। এই কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও নগরী পরিচ্ছন্ন রাখতে ডিএসসিসির নিজস্ব কর্মী এবং পিসিএসপিসহ মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন কর্মী নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই কাজে ৩৮২টি বিশেষায়িত যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি ছোট-বড় যানবাহন মোতায়েন করা হয়। ডিএসসিসি নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে গত তিন দিনে মোট ১৭ হাজার ৩১৫টি পশু কোরবানি সম্পন্ন হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।
ঈদের আগে জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, টিভিসি প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ব্যাপক মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা চালানো হয়েছিল। এছাড়া নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করতে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন (১,০৫০ লিটার) স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। এর ফলে সচেতন নাগরিকরা কোরবানির বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্ধারিত স্থানে রেখে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা করেন। এই ইতিবাচক পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে একটি পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীরা নিয়মিত সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি এবং কার্যক্রমের ত্রুটি-বিচ্যুতি বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরায় তাদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। কোরবানির ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণে শর্ত অনুযায়ী ইজারাদাররা নির্ধারিত সময়ে কাজ না করার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 





















