দেশের অব্যবহৃত আটটি বিমানবন্দর পর্যায়ক্রমে চালুর মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বোর্ড সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরও পুনরায় চালুর উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।
সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা জানান, পরিত্যক্ত বিমানবন্দরগুলো চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশের স্বার্থ ও যাত্রীসেবা বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এগুলোর কাজ শুরু হবে। বগুড়ায় ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ধরনের উড়োজাহাজসহ দেশি-বিদেশি যাত্রী ও কার্গো বিমান সহজে অবতরণে সক্ষম হবে। প্রকল্পে চারতলা আধুনিক টার্মিনাল, কন্ট্রোল টাওয়ার, কার্গো কমপ্লেক্স এবং আইএলএস ক্যাট-৩বি প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ঘন কুয়াশাতেও নিরাপদ উড্ডয়ন-অবতরণ নিশ্চিত করবে।
প্রকল্পের ডিজাইন ও কারিগরি সমীক্ষার জন্য বুয়েটকে পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। গত ২৮ এপ্রিল বুয়েট প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেবিচকের বৈঠক হয়। পরামর্শক নিয়োগের পর ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নকশা ও ডিপিপি প্রস্তুতের লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪০০ থেকে ৬০০ একর অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নবায়ন এবং রানওয়ে সেফটি এরিয়া উন্নয়নও প্রক্রিয়াধীন। সব মিলিয়ে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়াতে পারে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। ৭ মে বগুড়া বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের দীর্ঘ অচলাবস্থা প্রসঙ্গে জানা যায়, সদর উপজেলার শিবগঞ্জে ১৯৪০ সালে ৫৫০ একর জমির ওপর বিমানবন্দরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৭৭ সালে রানওয়ে সংস্কার হলেও যাত্রী সংকটে ১৯৮০ সালে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে সীমিত সংস্কার হলেও নিয়মিত ফ্লাইট চালু হয়নি। বর্তমানে অবকাঠামো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। টার্মিনাল ও কন্ট্রোল টাওয়ার প্রায় অকার্যকর, নেই অগ্নিনির্বাপণ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ৬ হাজার ফুট রানওয়ে থাকলেও আধুনিক লাইটিং ও নেভিগেশন সুবিধা নেই। বেবিচকের এক উপস্থাপনায় জানানো হয়েছে, বিমানবন্দর আধুনিকায়নে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রয়োজন।
রিপোর্টারের নাম 























