ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

১৮ বছর পর সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র: অবসরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে হতাশ কেরালার যুবক

সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র একজন চাকরিপ্রার্থীর জীবনের এক অনবদ্য প্রাপ্তি। কিন্তু কেরালার এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা এক চরম হতাশাজনক অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে। যে মেধা তালিকার ভিত্তিতে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই তালিকার মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮ বছর পর, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি সেই নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন।

ভারতের কেরালা রাজ্যের মালাপ্পুরম জেলার কালিকাভুর বাসিন্দা আবদুল মজিদ গত মাসে কেরালা পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) থেকে খণ্ডকালীন জুনিয়র আরবি শিক্ষক পদের জন্য সুপারিশপত্র পান। এই ঘটনায় তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছেন। সবচেয়ে বিড়ম্বনার বিষয় হলো, মজিদ ২০০৫ সালে এই পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং যে তালিকা থেকে তাকে নির্বাচন করা হয়েছে, সেটির মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০০৮ সালেই।

হতাশ মজিদ জানান, সরকারি চাকরি করা তার বহুদিনের স্বপ্ন ছিল। তালিকায় নাম আসার পর তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও কোনো যোগাযোগ না আসায় তিনি সেই আশা ছেড়ে দেন। ৬০ বছর বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর সেই আশার আলোটুকুও নিভে গিয়েছিল।

মজিদের আক্ষেপ, পিএসসি থেকে নিয়োগপত্র ইস্যু করতে তাদের ১৮ বছর সময় লেগেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এত বেশি বিলম্ব হয়েছে যে, এখন এই পদে চাকরি করার মতো বাস্তব কোনো সুযোগ বা পরিস্থিতি তার নেই।

জানা গেছে, একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর পরও যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় শূন্য থাকা একটি পদের বিপরীতে আবদুল মজিদকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগপত্র পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে তিন মাসের মধ্যে চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা। তবে মজিদের এসএসএলসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী, তার জন্ম তারিখ ২৭ মে, ১৯৬৬। ফলে নির্ধারিত অবসরের বয়স পার হয়ে যাওয়ায় আইনিভাবেও এখন আর এই চাকরিতে যোগ দেওয়ার কোনো যোগ্যতা তার নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন কমিশনের ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকার ইভিএম

১৮ বছর পর সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র: অবসরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে হতাশ কেরালার যুবক

আপডেট সময় : ০২:০১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র একজন চাকরিপ্রার্থীর জীবনের এক অনবদ্য প্রাপ্তি। কিন্তু কেরালার এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা এক চরম হতাশাজনক অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে। যে মেধা তালিকার ভিত্তিতে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই তালিকার মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮ বছর পর, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি সেই নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন।

ভারতের কেরালা রাজ্যের মালাপ্পুরম জেলার কালিকাভুর বাসিন্দা আবদুল মজিদ গত মাসে কেরালা পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) থেকে খণ্ডকালীন জুনিয়র আরবি শিক্ষক পদের জন্য সুপারিশপত্র পান। এই ঘটনায় তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছেন। সবচেয়ে বিড়ম্বনার বিষয় হলো, মজিদ ২০০৫ সালে এই পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং যে তালিকা থেকে তাকে নির্বাচন করা হয়েছে, সেটির মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০০৮ সালেই।

হতাশ মজিদ জানান, সরকারি চাকরি করা তার বহুদিনের স্বপ্ন ছিল। তালিকায় নাম আসার পর তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও কোনো যোগাযোগ না আসায় তিনি সেই আশা ছেড়ে দেন। ৬০ বছর বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর সেই আশার আলোটুকুও নিভে গিয়েছিল।

মজিদের আক্ষেপ, পিএসসি থেকে নিয়োগপত্র ইস্যু করতে তাদের ১৮ বছর সময় লেগেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এত বেশি বিলম্ব হয়েছে যে, এখন এই পদে চাকরি করার মতো বাস্তব কোনো সুযোগ বা পরিস্থিতি তার নেই।

জানা গেছে, একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর পরও যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় শূন্য থাকা একটি পদের বিপরীতে আবদুল মজিদকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগপত্র পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে তিন মাসের মধ্যে চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা। তবে মজিদের এসএসএলসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী, তার জন্ম তারিখ ২৭ মে, ১৯৬৬। ফলে নির্ধারিত অবসরের বয়স পার হয়ে যাওয়ায় আইনিভাবেও এখন আর এই চাকরিতে যোগ দেওয়ার কোনো যোগ্যতা তার নেই।