ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে ফুচকার স্বর্গরাজ্য: ‘ফুচকাগ্রাম’ নামে পরিচিত শহীদ পল্লী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফুচকাপ্রেমীদের জন্য এক বিশেষ গন্তব্য হয়ে উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার কাছে অবস্থিত ‘শহীদ পল্লী’। গ্রামটি এখন ‘ফুচকাগ্রাম’ নামেই পরিচিত। কলকাতা থেকে প্রায় ৪৫-৫০ কিলোমিটার দূরে এই গ্রামের প্রায় ১০০টি পরিবার প্রতিদিন ফুচকা তৈরি ও বিক্রির সাথে জড়িত।

শহরের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে এখানে ফুচকা পাওয়া যায়। যেখানে শহরে ১০ রুপিতে ৫-৬টি ফুচকা মেলে, সেখানে এই গ্রামে মাত্র ১০ রুপিতেই মিলছে ১০-১২টি ফুচকা। আটা ও সুজি দিয়ে তৈরি মুচমুচে ফুচকার খোলসের সঙ্গে তেঁতুলের টক জল এবং মশলাদার আলুর পুরের চিরাচরিত স্বাদের পাশাপাশি এখানে পাওয়া যায় নানা ধরনের ফিউশন ফুচকা।

ফুচকাগ্রামের দিন শুরু হয় ভোর ৪টায়। পরিবারের সবাই মিলে হাতে তৈরি করেন ফুচকার খামির, কাটেন লেচি এবং ভাজেন। প্রতিটি পরিবার গড়ে প্রতিদিন ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার ফুচকা তৈরি করে, যা কলকাতা, ব্যারাকপুর, নৈহাটি ও কল্যাণীর মতো আশেপাশের অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। পুরুষেরা দুপুরের পর বাজারে ফুচকা বিক্রি করতে যান, আর নারীরা গ্রামের ভেতরেই বিভিন্ন স্বাদের ফুচকার দোকান পরিচালনা করেন।

এখানে ফুচকার বৈচিত্র্য অবাক করার মতো। ঐতিহ্যবাহী আলুর পুর ছাড়াও পাওয়া যায় চিকেন, মাটন, চিংড়ি, ফিশ, চাটনি, চকোলেট, দই, কর্ন, এমনকি জেলি ও আইসক্রিম ভরা ফুচকাও। কিছু বিক্রেতার দাবি, তারা ১০০টিরও বেশি স্বাদের ফুচকা বিক্রি করেন। আমিষ ফুচকার দাম সাধারণত ৪০ থেকে ৮০ রুপি এবং ডেজার্ট ফুচকার দাম ৫০ রুপির কাছাকাছি, যা শহরের তুলনায় অনেক কম।

একসময়ের অখ্যাত ‘শহীদ পল্লী’ গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার ফুচকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করায় এটি ধীরে ধীরে ‘ফুচকাগ্রাম’ নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ফুড ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রচারের ফলে এটি পর্যটকদের কাছে এক জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোবাইল ফোন কি সারারাত চার্জে রাখা নিরাপদ? জেনে নিন বিস্তারিত

পশ্চিমবঙ্গে ফুচকার স্বর্গরাজ্য: ‘ফুচকাগ্রাম’ নামে পরিচিত শহীদ পল্লী

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফুচকাপ্রেমীদের জন্য এক বিশেষ গন্তব্য হয়ে উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার কাছে অবস্থিত ‘শহীদ পল্লী’। গ্রামটি এখন ‘ফুচকাগ্রাম’ নামেই পরিচিত। কলকাতা থেকে প্রায় ৪৫-৫০ কিলোমিটার দূরে এই গ্রামের প্রায় ১০০টি পরিবার প্রতিদিন ফুচকা তৈরি ও বিক্রির সাথে জড়িত।

শহরের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে এখানে ফুচকা পাওয়া যায়। যেখানে শহরে ১০ রুপিতে ৫-৬টি ফুচকা মেলে, সেখানে এই গ্রামে মাত্র ১০ রুপিতেই মিলছে ১০-১২টি ফুচকা। আটা ও সুজি দিয়ে তৈরি মুচমুচে ফুচকার খোলসের সঙ্গে তেঁতুলের টক জল এবং মশলাদার আলুর পুরের চিরাচরিত স্বাদের পাশাপাশি এখানে পাওয়া যায় নানা ধরনের ফিউশন ফুচকা।

ফুচকাগ্রামের দিন শুরু হয় ভোর ৪টায়। পরিবারের সবাই মিলে হাতে তৈরি করেন ফুচকার খামির, কাটেন লেচি এবং ভাজেন। প্রতিটি পরিবার গড়ে প্রতিদিন ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার ফুচকা তৈরি করে, যা কলকাতা, ব্যারাকপুর, নৈহাটি ও কল্যাণীর মতো আশেপাশের অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। পুরুষেরা দুপুরের পর বাজারে ফুচকা বিক্রি করতে যান, আর নারীরা গ্রামের ভেতরেই বিভিন্ন স্বাদের ফুচকার দোকান পরিচালনা করেন।

এখানে ফুচকার বৈচিত্র্য অবাক করার মতো। ঐতিহ্যবাহী আলুর পুর ছাড়াও পাওয়া যায় চিকেন, মাটন, চিংড়ি, ফিশ, চাটনি, চকোলেট, দই, কর্ন, এমনকি জেলি ও আইসক্রিম ভরা ফুচকাও। কিছু বিক্রেতার দাবি, তারা ১০০টিরও বেশি স্বাদের ফুচকা বিক্রি করেন। আমিষ ফুচকার দাম সাধারণত ৪০ থেকে ৮০ রুপি এবং ডেজার্ট ফুচকার দাম ৫০ রুপির কাছাকাছি, যা শহরের তুলনায় অনেক কম।

একসময়ের অখ্যাত ‘শহীদ পল্লী’ গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার ফুচকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করায় এটি ধীরে ধীরে ‘ফুচকাগ্রাম’ নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ফুড ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রচারের ফলে এটি পর্যটকদের কাছে এক জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।