রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে, যখন হাসপাতালটিতে সম্প্রতি ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পরিদর্শনে এসেছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় একটি ভবনে বেকারি পরিচালনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে একটি বেকারি পাওয়া গেছে। দুটি ইলেকট্রিক ওভেন দিয়ে এই বেকারি চলে। কোনো ইঞ্জিনিয়ার নেই। এটা উচিত হয়নি। প্রচুর ময়লা পাওয়া গেছে।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল ত্যাগের পর হাসপাতালের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা গেটের সামনে অবস্থান নেয়। সাংবাদিকরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়, যা নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
এ বিষয়ে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন জানান, ‘বেকারিটি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলগালা করে দিয়ে গেছেন। এখন আর কাউকে ভেতরে ঢোকা সম্ভব না।’ হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার ঘটনাস্থলে এলেও সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের স্টাফ নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করা হয় এবং বিভিন্ন শক্ত বস্তু নিক্ষেপ করা হয়, এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। হামলায় আহতদের মধ্যে টাইমস অব বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার কাজী জাহিদ ও দীপ্ত টিভির এক ক্যামেরাপারসন রয়েছেন। বৈশাখী টিভির একটি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার কারণ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
রিপোর্টারের নাম 



















