দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষা, হতাশা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) উদ্যোক্তা কাজী জসীমুল ইসলাম নতুন আশার আলো দেখছেন। তিনি দাবি করেছেন, আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের মাধ্যমে শুধু তার কোম্পানির পথই খোলেনি, বরং বাংলাদেশের পরিবহন খাতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বাঘ ইকো মোটরস লিমিটেডের এই উদ্যোক্তা একে বলছেন— “আধুনিকতার সিংহদুয়ার।”
কাজী জসীমুল ইসলাম বলেন, “অনেক লোকসানের পর দেশের উন্নয়ন ও লাভের জন্য একটা সিংহদুয়ার খুলে গেলো। ব্যক্তিগত ক্ষতি থাক, কিন্তু সমষ্টির উপকার হবে— এই প্রাপ্তিই সবচেয়ে বড়।” ২০১৮ সালে যে স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটি বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় নিবন্ধন ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা। আধুনিক প্রযুক্তির যানবাহন তৈরি করেও তা সড়কে নামানোর অনুমতি না পাওয়ায় পুরো পরিকল্পনা আটকে যায়।
বিশ্ব যখন দ্রুত বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝুঁকছে, তখন বাংলাদেশেও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা করেন কাজী জসীমুল ইসলাম। তার ভাবনায় ছিল— শুধু একটি যানবাহন নয়, বরং পুরো নগর পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা। তিনি মনে করেন, দেশের শহরগুলোতে চলাচলকারী দুই, তিন ও চার চাকার অনেক যানবাহনের আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সেগুলো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা গেলে মানুষের জীবনযাত্রায়ও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তার পরিকল্পনায় ছিল— দেশীয় কারখানায় আধুনিক ইভি যানবাহন উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার, অ্যাসিডমুক্ত ব্যাটারি প্রযুক্তি, যাত্রীদের জন্য ওয়াই-ফাই সুবিধা, কেন্দ্রীয় ট্র্যাকিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর নগর পরিবহন নেটওয়ার্ক। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিকল্পনা এগোয়নি। তিনি বলেন, “যেকোনও নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে মানুষের দ্বিধা থাকে। তাই আমরা চেয়েছিলাম কিছু যানবাহন রাস্তায় নামুক, মানুষ ব্যবহার করুক, স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করুক। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি।”
রিপোর্টারের নাম 





















