ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে উন্মোচিত হলো মধ্যযুগের দুর্বোধ্য প্রেমপত্র ও চিকিৎসার রহস্য

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন লাইব্রেরি ও আর্কাইভে সংরক্ষিত বহু ঐতিহাসিক নথি ও সংকেতবদ্ধ বার্তা আজও অধরা রয়ে গেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় ইতিহাসবিদেরা এখন এই রহস্যময় লেখাগুলোর পাঠোদ্ধারে অভাবনীয় অগ্রগতি সাধন করছেন।

ভ্যাটিকান লাইব্রেরির আর্কাইভে প্রায় ৪০০ বছরের বেশি সময় ধরে অপঠিত অবস্থায় পড়ে ছিল হাতে লেখা এক রহস্যময় বই। অদ্ভুত সব প্রতীক ও চিহ্নে ভরা এই বইটিতে মানবদেহের নানা রোগের গোপন চিকিৎসা পদ্ধতি লিপিবদ্ধ আছে বলে ধারণা করা হয়। সে সময় এ ধরনের চিকিৎসাপদ্ধতি গোপন রাখা হতো, কারণ এগুলো নিয়ে জাদুবিদ্যা বা অন্ধবিশ্বাসের অভিযোগ উঠতে পারত।

‘বর্গ সাইফার’ নামে পরিচিত ৪০৮ পৃষ্ঠার এই পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত দুর্বোধ্য ছিল। এতে ৩৪টি অচেনা প্রতীক, কিছু রোমান বর্ণ এবং আরবিতে লেখা একটি প্রচ্ছদ ছিল। এর পাঠোদ্ধারের কোনো সংকেত দেওয়া ছিল না। পাণ্ডুলিপির কিছু পৃষ্ঠাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এটি পাঠোদ্ধারের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

তবে মেশিন লার্নিংভিত্তিক এআইয়ের সহায়তায় গবেষকেরা এই সংকেত ভাঙতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁরা আবিষ্কার করেছেন যে, এতে নানা অদ্ভুত চিকিৎসাপদ্ধতির বর্ণনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ডায়রিয়া সারাতে কয়েক গ্লাস লাল পানীয় পান করা বা ময়দার খামিরে জয়ফল গাঁজন করার মতো পদ্ধতির উল্লেখ পাওয়া গেছে।

সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটেশনাল লিংগুইস্টিকসের অধ্যাপক বিয়াটা মেগিয়েসি এই অগ্রগতি সম্পর্কে বলেন, ‘এটি গোয়েন্দা কাজের মতো। প্রতিটি প্রতীক, ধরন ও আংশিক সমাধান আমাদের হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহাসিক জগতের গোপন তথ্যের কাছে নিয়ে যেতে পারে।’ তিনি আরও জানান, এআইয়ের সহায়তা সত্ত্বেও সংকেত উন্মোচনের কাজটি ছিল দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য।

বর্তমানে মেগিয়েসি ও তাঁর সহকর্মীরা ঐতিহাসিক সংকেতলিপির অর্থ উদঘাটনে এআই ব্যবহারের একটি বড় উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে অতীতে সাংকেতিকভাবে লেখা বিপুল পরিমাণ তথ্য উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হয়, বিশ্বজুড়ে আর্কাইভ ও লাইব্রেরিতে থাকা প্রায় ১ শতাংশ উপাদান আংশিক বা পুরোপুরি সংকেতলিপিতে লেখা। এর মধ্যে প্রাচীন গ্রিস ও রোমের সময়কার সংকেতও রয়েছে। এসব ঐতিহাসিক সংকেতলিপিতে কূটনৈতিক তথ্য, গোপন সংগঠনের আচার-অনুষ্ঠান, চিকিৎসাবিষয়ক জ্ঞান, প্রেমের সম্পর্ক কিংবা দৈনন্দিন ব্যক্তিগত তথ্য লুকিয়ে আছে, যা ইতিহাসের প্রচলিত বর্ণনায় অনুপস্থিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ব্যর্থতা: দুই সিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে উন্মোচিত হলো মধ্যযুগের দুর্বোধ্য প্রেমপত্র ও চিকিৎসার রহস্য

আপডেট সময় : ০৬:৩২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন লাইব্রেরি ও আর্কাইভে সংরক্ষিত বহু ঐতিহাসিক নথি ও সংকেতবদ্ধ বার্তা আজও অধরা রয়ে গেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় ইতিহাসবিদেরা এখন এই রহস্যময় লেখাগুলোর পাঠোদ্ধারে অভাবনীয় অগ্রগতি সাধন করছেন।

ভ্যাটিকান লাইব্রেরির আর্কাইভে প্রায় ৪০০ বছরের বেশি সময় ধরে অপঠিত অবস্থায় পড়ে ছিল হাতে লেখা এক রহস্যময় বই। অদ্ভুত সব প্রতীক ও চিহ্নে ভরা এই বইটিতে মানবদেহের নানা রোগের গোপন চিকিৎসা পদ্ধতি লিপিবদ্ধ আছে বলে ধারণা করা হয়। সে সময় এ ধরনের চিকিৎসাপদ্ধতি গোপন রাখা হতো, কারণ এগুলো নিয়ে জাদুবিদ্যা বা অন্ধবিশ্বাসের অভিযোগ উঠতে পারত।

‘বর্গ সাইফার’ নামে পরিচিত ৪০৮ পৃষ্ঠার এই পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত দুর্বোধ্য ছিল। এতে ৩৪টি অচেনা প্রতীক, কিছু রোমান বর্ণ এবং আরবিতে লেখা একটি প্রচ্ছদ ছিল। এর পাঠোদ্ধারের কোনো সংকেত দেওয়া ছিল না। পাণ্ডুলিপির কিছু পৃষ্ঠাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এটি পাঠোদ্ধারের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

তবে মেশিন লার্নিংভিত্তিক এআইয়ের সহায়তায় গবেষকেরা এই সংকেত ভাঙতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁরা আবিষ্কার করেছেন যে, এতে নানা অদ্ভুত চিকিৎসাপদ্ধতির বর্ণনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ডায়রিয়া সারাতে কয়েক গ্লাস লাল পানীয় পান করা বা ময়দার খামিরে জয়ফল গাঁজন করার মতো পদ্ধতির উল্লেখ পাওয়া গেছে।

সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটেশনাল লিংগুইস্টিকসের অধ্যাপক বিয়াটা মেগিয়েসি এই অগ্রগতি সম্পর্কে বলেন, ‘এটি গোয়েন্দা কাজের মতো। প্রতিটি প্রতীক, ধরন ও আংশিক সমাধান আমাদের হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহাসিক জগতের গোপন তথ্যের কাছে নিয়ে যেতে পারে।’ তিনি আরও জানান, এআইয়ের সহায়তা সত্ত্বেও সংকেত উন্মোচনের কাজটি ছিল দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য।

বর্তমানে মেগিয়েসি ও তাঁর সহকর্মীরা ঐতিহাসিক সংকেতলিপির অর্থ উদঘাটনে এআই ব্যবহারের একটি বড় উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে অতীতে সাংকেতিকভাবে লেখা বিপুল পরিমাণ তথ্য উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হয়, বিশ্বজুড়ে আর্কাইভ ও লাইব্রেরিতে থাকা প্রায় ১ শতাংশ উপাদান আংশিক বা পুরোপুরি সংকেতলিপিতে লেখা। এর মধ্যে প্রাচীন গ্রিস ও রোমের সময়কার সংকেতও রয়েছে। এসব ঐতিহাসিক সংকেতলিপিতে কূটনৈতিক তথ্য, গোপন সংগঠনের আচার-অনুষ্ঠান, চিকিৎসাবিষয়ক জ্ঞান, প্রেমের সম্পর্ক কিংবা দৈনন্দিন ব্যক্তিগত তথ্য লুকিয়ে আছে, যা ইতিহাসের প্রচলিত বর্ণনায় অনুপস্থিত।