ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় ‘সাদা দল’ ক্ষুব্ধ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’। সংগঠনটির নেতারা অবিলম্বে এ বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৯ মে) ‘সাদা দল’-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকারের সই করা এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে শিক্ষক নেতারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন, অবমাননাকর ও দুঃখজনক।

তারা উল্লেখ করেন, গবেষণা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) এশিয়া র‍্যাংকিং অনুযায়ী এটি দেশের প্রধান গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের অধীনে প্রায় ৫৬টি বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্র ও ব্যুরো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্কোপাস ও ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সড জার্নালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন।

‘সাদা দল’-এর নেতারা বলেন, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা করা এবং এর গবেষণা কার্যক্রমকে খাটো করে দেখা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তারা আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; বরং বাংলাদেশের জাতীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ১/১১-পরবর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য। বাংলা সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম ধারক হিসেবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা ও বিকাশেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অপরিসীম।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ব্যর্থতা: দুই সিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত

ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় ‘সাদা দল’ ক্ষুব্ধ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৬:৩১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’। সংগঠনটির নেতারা অবিলম্বে এ বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৯ মে) ‘সাদা দল’-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকারের সই করা এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে শিক্ষক নেতারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন, অবমাননাকর ও দুঃখজনক।

তারা উল্লেখ করেন, গবেষণা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) এশিয়া র‍্যাংকিং অনুযায়ী এটি দেশের প্রধান গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের অধীনে প্রায় ৫৬টি বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্র ও ব্যুরো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্কোপাস ও ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সড জার্নালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন।

‘সাদা দল’-এর নেতারা বলেন, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা করা এবং এর গবেষণা কার্যক্রমকে খাটো করে দেখা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তারা আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; বরং বাংলাদেশের জাতীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ১/১১-পরবর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য। বাংলা সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম ধারক হিসেবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা ও বিকাশেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অপরিসীম।