ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

কোরবানির হাটে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন: ছাগলের দামে লোকসানের আশঙ্কা

কোরবানির ঈদের বাজারে ছাগল ব্যবসায়ীরা কম লাভ বা লোকসানের আশঙ্কায় মনমরা হয়ে পড়েছেন। অল্প লাভেই অনেককে ঘরে ফিরতে হচ্ছে, আবার লোকসানের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। শরিয়তপুরের ষাটোর্ধ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝি জানান, ‘ছাগল বেচতে এসে এবার আমিই ছাগল হয়ে গেছি। গত বছর ৪০টা ছাগল এনে ৭০ হাজার টাকা লাভ করেছিলাম। এবার লোকসান ঠেকাতে পাগল হয়ে যাচ্ছি।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিং এলাকার প্রধান সড়কে ছাগল নিয়ে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে থাকা আনোয়ার হোসেন মাঝি বলেন, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মো. আনিছুর রহমানও জানান, কোনো ছাগলে দুই হাজার টাকা লাভ হয়েছে, কোনোটা আবার কেনা দামে বিক্রি করতে হচ্ছে—ঘাটতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু আনোয়ার মাঝি ও আনিছুর রহমানই নন, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিমনা গ্রামের মুক্তারুল, একই উপজেলার ধারঘরা গ্রামের আজিজুর, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ধানঘরা গ্রামের একরামুল হকসহ বেশিরভাগ ব্যবসায়ীর মুখে প্রায় একই কথা শোনা যাচ্ছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিংসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় ছাগলের হাট বসেছে। মোহাম্মদী হাউজিংয়ের ভেতরে ছোট আকারে গরুর হাটও রয়েছে। বুধবার বিকাল পর্যন্ত ছাগলের বাজার তেমন জমজমাট ছিল না। দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ধানঘরা গ্রামের একরামুল হক জানান, গত বছর যে খাসি বিক্রি করেছেন ২৪–২৫ হাজার টাকায়, এবার একই মানের খাসির দাম বলছে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ২১ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ঘরভাড়া ও অন্যান্য খরচ যুক্ত আছে।

তিনি আরও জানান, গত বছর ঈদের এই সময়ে ২১টি খাসি এনে বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৭৪ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। এবার লাভ সীমিত, এমনকি লোকসানও হতে পারে। লোকসান ঠেকাতে তিনি অপেক্ষা করছেন। বৃষ্টি না থাকলেও, চাহিদা না থাকলে লোকসান ঠেকানো কঠিন হবে বলে তিনি জানান। দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মো. আনিছুর রহমান জানান, এবার বাজার ভালো না। গত বছর ১৬টি বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। এবার ১১টি ছাগলে এ পর্যন্ত দুইটি ছাগল কেনা দামে বিক্রি করেছেন।

লাভের আশা ছেড়ে দিয়েছেন জানিয়ে রংপুরের পীরগাছা এলাকার মো. শাহেদ বলেন, ‘আসল তুলতে পারলেই বাঁচি।’ দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিমনা গ্রামের মুক্তারুল এবং একই উপজেলার ধারঘরা গ্রামের আজিজুরেরও একই বক্তব্য। শরিয়তপুর থেকে আসা আনোয়ার হোসেন মাঝি জানান, ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি এই ব্যবসায় জড়িত আছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত অব্যাহত

কোরবানির হাটে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন: ছাগলের দামে লোকসানের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৭:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদের বাজারে ছাগল ব্যবসায়ীরা কম লাভ বা লোকসানের আশঙ্কায় মনমরা হয়ে পড়েছেন। অল্প লাভেই অনেককে ঘরে ফিরতে হচ্ছে, আবার লোকসানের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। শরিয়তপুরের ষাটোর্ধ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝি জানান, ‘ছাগল বেচতে এসে এবার আমিই ছাগল হয়ে গেছি। গত বছর ৪০টা ছাগল এনে ৭০ হাজার টাকা লাভ করেছিলাম। এবার লোকসান ঠেকাতে পাগল হয়ে যাচ্ছি।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিং এলাকার প্রধান সড়কে ছাগল নিয়ে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে থাকা আনোয়ার হোসেন মাঝি বলেন, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মো. আনিছুর রহমানও জানান, কোনো ছাগলে দুই হাজার টাকা লাভ হয়েছে, কোনোটা আবার কেনা দামে বিক্রি করতে হচ্ছে—ঘাটতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু আনোয়ার মাঝি ও আনিছুর রহমানই নন, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিমনা গ্রামের মুক্তারুল, একই উপজেলার ধারঘরা গ্রামের আজিজুর, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ধানঘরা গ্রামের একরামুল হকসহ বেশিরভাগ ব্যবসায়ীর মুখে প্রায় একই কথা শোনা যাচ্ছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিংসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় ছাগলের হাট বসেছে। মোহাম্মদী হাউজিংয়ের ভেতরে ছোট আকারে গরুর হাটও রয়েছে। বুধবার বিকাল পর্যন্ত ছাগলের বাজার তেমন জমজমাট ছিল না। দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ধানঘরা গ্রামের একরামুল হক জানান, গত বছর যে খাসি বিক্রি করেছেন ২৪–২৫ হাজার টাকায়, এবার একই মানের খাসির দাম বলছে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ২১ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ঘরভাড়া ও অন্যান্য খরচ যুক্ত আছে।

তিনি আরও জানান, গত বছর ঈদের এই সময়ে ২১টি খাসি এনে বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৭৪ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। এবার লাভ সীমিত, এমনকি লোকসানও হতে পারে। লোকসান ঠেকাতে তিনি অপেক্ষা করছেন। বৃষ্টি না থাকলেও, চাহিদা না থাকলে লোকসান ঠেকানো কঠিন হবে বলে তিনি জানান। দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মো. আনিছুর রহমান জানান, এবার বাজার ভালো না। গত বছর ১৬টি বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। এবার ১১টি ছাগলে এ পর্যন্ত দুইটি ছাগল কেনা দামে বিক্রি করেছেন।

লাভের আশা ছেড়ে দিয়েছেন জানিয়ে রংপুরের পীরগাছা এলাকার মো. শাহেদ বলেন, ‘আসল তুলতে পারলেই বাঁচি।’ দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিমনা গ্রামের মুক্তারুল এবং একই উপজেলার ধারঘরা গ্রামের আজিজুরেরও একই বক্তব্য। শরিয়তপুর থেকে আসা আনোয়ার হোসেন মাঝি জানান, ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি এই ব্যবসায় জড়িত আছেন।